এশিয়া টাইমসের বিশ্লেষণ
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস হওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে এবার প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে মার্কিন বিমানবাহিনীর এই বিপর্যয় ভবিষ্যতে চীনের সাথে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের টিকে থাকার সক্ষমতাকে এক বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি সিআরএস একটি রিপোর্টে এই ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও সামরিক চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সিআরএসের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪২টি অত্যাধুনিক বিমান ও ড্রোন সম্পূর্ণ ধ্বংস অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় মার্কিন বিমানবাহিনীর গর্ব এফ-থার্টিফাইভ স্টিলথ ফাইটার থেকে শুরু করে একাধিক এফ-ফিফটিন-ই স্ট্রাইক ইগল, এ-টেন থান্ডারবোল্ট, বিশালাকার কেসি-ওয়ানথার্টিফাইভ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট এবং বেশ কিছু দূরপাল্লার অত্যাধুনিক ড্রোন রয়েছে। একটি একক অভিযানে এত অল্প সময়ে এত বেশিসংখ্যক উচ্চমূল্যের যুদ্ধবিমান হারানোর ঘটনা মার্কিন সামরিক ইতিহাসে সাম্প্রতিককালে আর দেখা যায়নি। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন বিমানবাহিনীর এই বিপর্যয়ের পেছনে বেশ কিছু কৌশলগত ব্যর্থতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক বিভ্রান্তি প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মধ্যে নিজেদের কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, রাডার সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং পাইলটদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কুয়েতের আকাশে নিজেদের তিনটি যুদ্ধবিমান ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (নিজেদেরই অন্য বাহিনীর ভুল আক্রমণে) ধ্বংস হওয়ায় পেন্টাগনের উদ্বেগ দেখা দেয়।



