প্রাথমিক শিক্ষায় সিলেবাস বাণিজ্য মতলবে অভিভাবকদের উদ্বেগ

Printed Edition

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সিলেবাস বিক্রির নামে রীতিমতো বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায়। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক হলেও এখানে নামমাত্র মূল্যের সিলেবাসের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।

জানা যায়, উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সরবরাহকৃত প্রতিটি সিলেবাসের মুদ্রণ ব্যয় মাত্র দুই টাকা। অথচ এর নির্ধারিত মূল্য আট টাকা। কিন্তু অভিযোগ, উপজেলা শিক্ষা অফিসের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে স্কুলগুলোতে এই সিলেবাস বাধ্যতামূলক করে দেয়া হচ্ছে এবং ১০ - ৮০ টাকা দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

বাগানবাড়ি, ফরাজীকান্দী, সুলতানাবাদ, গজরা, ফতেপুর, ষাটনল, মোহনপুর, জহিরাবাদ ইউনিয়ন ও ছেংগারচর পৌরসভার একাধিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা জানান, সিলেবাস সংগ্রহের জন্য তাদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি টাকা নেয়া হয়েছে। পৌরসভার ব্যাসদী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ২০ টাকা, নবাব নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশা মনিকে ৪০ টাকা এবং বাগানবাড়ি ও সাদুল্লাপুরের অনেক শিক্ষার্থীকে ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে খাগুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিপন চৌধুরী ও ধনারচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমরা উপজেলা শিক্ষা অফিস ও ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। অফিসের নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই।’

তবে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন দাবি করেন, ‘সিলেবাসের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি।’

চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অনিয়ম। অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এলাকাবাসীর দাবি, প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ঠিক রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় বিনামূল্যে শিক্ষার মূল আদর্শই প্রশ্নের মুখে পড়বে।