খুলনা ব্যুরো ও ফুলতলা (খুলনা) সংবাদদাতা
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়া তিনটি দল সততা, নৈতিকতা, চরিত্র ও আমানতদারির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে। যারা বারবার পরীক্ষায় ফেল করে, তাদের আর পরীক্ষায় বসতে দেয়া হয় না। জনগণ এবার সেই ফেল করা দলগুলোকেই রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
গতকাল বিকেলে খুলনার ফুলতলার স্বাধীনতা চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশজুড়ে একটি তীব্র রাজনৈতিক জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী থেকে গ্রাম-গঞ্জ, শ্রমিক, রিকশাচালক, দিনমজুর, দোকানদার, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার ও ছাত্রসমাজ সবার মুখে এখন একটাই উচ্চারণ, আমরা পরিবর্তন চাই। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি পক্ষ চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।
দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে নারী ভোটারদের হিজাব খুলে নেয়ার হুমকি, শারীরিক নির্যাতন, সভা-মিটিংয়ে হামলা এবং পীর-মুরুব্বিদের হত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মায়েদের কাপড় খুলে দিতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে গোটা জাতিকে বিবস্ত্র করে ফেলবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, আমি এমপি নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফুলতলা-ডুমুরিয়া এলাকার বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশন ও বন্ধকৃত মিলগুলো চালু করার ব্যাপারে ভূমিকা রাখবো। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরাও একজন মুসলিমের মতো রাষ্ট্রের পূর্ণ অধিকার ভোগ করবে। তাই ভয়ভীতি হুমকি-ধামকি থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে একটি সুখী সমৃদ্ধ কল্যাণমুখী দেশ গড়তে আগামী ১২ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটকে নির্বাচিত করতে হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, একটি পক্ষ বুলেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর আমরা ব্যালটের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই বুলেটের রাজনীতিকে আমরা ব্যালটের মাধ্যমে পরাজিত করব। নির্বাচন কোনো সহজ অর্জন নয়। এই নির্বাচন পেতে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন, অসংখ্য মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এই নির্বাচন অর্জনের জন্য আমাদের জীবন দিতে হয়েছে। শুধু আয়নাঘর নয়, সারা বাংলাদেশই নিপীড়িত মানুষের জন্য উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের আগে বায়তুল মোকাররমের সামনে লগি-বৈঠার রাজনীতি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে ওসমান হাদির শাহাদত পর্যন্ত দীর্ঘ রক্তাক্ত লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে আজকের নির্বাচন এসেছে। এই নির্বাচন শহীদদের রক্তে লেখা।
প্রশাসনকে সন্তান, বাবা-মা ও দেশের মানুষের কথা মনে রাখার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচন তরুণ প্রজন্ম ও শহীদদের রক্তে অর্জিত। যদি আবার ব্যালট বাক্স ভরে দেয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জনগণের বিদ্রোহ সামলানো যাবে না। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রশাসনকে জনতার কাতারে নেমে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে আপনাদের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াত আমির অধ্যাপক আবদুল আলীম মোল্যা। উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল হাসান খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, জেলা যুব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সহসভাপতি আলী আকবর মোড়ল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ য্বু বিভাগের সহসভাপতি মাওলানা মিছবাউল হক, ফুলতলার হিন্দু শাখার সেক্রেটারি দ্বীনবন্ধু দে, খেলাফত মজলিশ ফুলতলা শাখার সভাপতি সরদার জালাল উদ্দিন, খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমির ডা: সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, শিবির নেতা হুসাইন আহমদ, আ: রহিম খান প্রমুখ।



