রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারো নিত্যপণ্যের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে একযোগে বিভিন্ন ধরনের সবজি, ফার্মের মুরগির ডিম ও সুগন্ধি চালের দাম বেড়েছে। যদিও কিছুটা কমেছে সোনালি মুরগির দাম, তবে সামগ্রিকভাবে বাজারে স্বস্তি নেই। এমন পরিস্থিতিতে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজার খরচ বেড়ে গিয়ে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর, রূপনগর আবাসিক, শেওড়াপাড়া ও শাহজাহানপুর কলোনি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ শুরু হলেও দাম স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়শ, বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা- প্রায় সব সবজির কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল ও করলার মতো কিছু সবজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, এক সাথে এত পণ্যের দাম বাড়ায় সংসারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শাহজাহানপুর এলাকায় সবজি কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, এক কেজি করে তিন ধরনের সবজি কিনতেই ৩০০ টাকার বেশি চলে যাচ্ছে। এই বাজারে মাছ-গোশত খাওয়া তো দূরের কথা।
এ দিকে বিক্রেতারা এর জন্য সরবরাহ সঙ্কট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও জ্বালানি ব্যয়ের কারণে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ দিকে ডিমের বাজারেও অস্থিরতা শুরু হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি ডজন ফার্মের ডিমের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খুচরায় ডজনপ্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, বড় আকারের হলে দাম ১৩০ টাকা ।
অন্য দিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। সোনালি মুরগির দাম আগের তুলনায় কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে এখন ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এক মাস আগের তুলনায় এখনো দাম অনেক বেশি। ব্রয়লার মুরগিও ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগের সময়ের তুলনায় বেশি।
খুচরা বাজারে সুগন্ধি চালের দামও বেড়েই চলেছে। খোলা সুগন্ধি চাল বর্তমানে কেজিতে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, আর মোড়কজাত চাল ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
এ ছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেলের সঙ্কট এখনো কাটেনি। অনেক দোকানেই বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনছেন, যার দামও লিটারে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থিরতা, উৎপাদন ঘাটতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মৌসুমি পরিবর্তন- সব মিলিয়ে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, কার্যকর বাজার তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা না বাড়ালে সামনে আরো অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তারা বলছেন, বাজার পরিস্থিতি এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাই হয়ে উঠেছে বড় চ্যালেঞ্জ।



