ক্রীড়া ডেস্ক
১৯৯৮ সালে সবশেষ বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে খেলেছিল স্কটল্যান্ড। অপর দিকে ৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব আসরে ফিরলেও প্রথম ম্যাচে পরাজয়ই সঙ্গী হলো হাইতির। জন ম্যাকগিনের একমাত্র গোলে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে জয়ের দেখা পেল স্কটিশরা। দুই দলের কাছেই উদ্বোধনী ম্যাচটি প্রায় নকআউটের মতো গুরুত্ব বহন করছিল। এই গ্রুপ থেকে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখতে তিন পয়েন্ট পাওয়াটা ছিল অপরিহার্য। কারণ গ্রুপে রয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এবং আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো। ফলে ম্যাচ জয়ে ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল ও মরক্কোর মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল স্কটল্যান্ড।
ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে হাইতিকে গতকাল ১-০ গোলে হারিয়েছে স্কটল্যান্ড। এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ইউরোপিয়ান দল হিসেবে জয়ের স্বাদ পেল তারা। প্রথমার্ধেই গোলটি করেন ম্যাকগিন। ১০ বছর ধরে জাতীয় দলে খেলা অ্যাস্টন ভিলার এই মিডফিল্ডারের গোলেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। দেশের জার্সিতে এ নিয়ে ২১টি গোল হলো তার। পুরো ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে দুই দলই সমানে সমান থাকলেও গোলের জন্য নেয়া শটে এগিয়ে ছিল হাইতি। ১৩টি শটের তিনটি লক্ষ্যে থাকলেও জালের দেখা পেল না উত্তর আমেরিকার দেশটি। অপর দিকে ৮ শটের তিনটি লক্ষ্যে রেখে একবার জাল স্পর্শ করে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউরোপের দেশটি।
ম্যাচে তুলনামূলকভাবে বেশি গোছানো ফুটবল খেলেছে স্কটল্যান্ড। তবে প্রথমার্ধের শেষ ১৫ ও দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ১৫ মিনিট হাইতির চাপে তটস্থ ছিল স্কটিশ রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। তার পরও গোলের খেলা ফুটবলে আসল কাজটি করতে পারেনি হাইতি। ম্যাচে শুরু থেকেই দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ নেয় স্কটল্যান্ড। ৭ মিনিটে প্রথম ঝলক দেখান ম্যাকগিন। তার ব্যাকহিল থেকে পাওয়া বলে ক্রস দেন অ্যান্ডি রবার্টসন। কিন্তু স্কট ম্যাকটমিনের হেড ওপর দিয়ে চলে গেলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি স্কটল্যান্ডের। তবে একের পর এক আক্রমণের চলতেই থাকে হাইতির রক্ষণে। তাতে সফলতা আসে ম্যাচের ২৮ মিনিটে। চে অ্যাডামসের চমৎকার ছোঁয়া থেকে বল পান দুর্দান্ত খেলতে থাকা গ্যানন-ডোক। তার বাড়ানো বলে ম্যাকগিনের শট গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে জড়িয়ে যায় জালে। শেষ পর্যন্ত এই গোলের ভাগ্য গড়ে দেয় ম্যাচের।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ হলেও নাটকীয় কিছু হয়নি। তবে ৭২ মিনিটে আবার গোলের কাছাকাছি যান ম্যাকগিন। বাঁ পাশ দিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শট দূরের পোস্ট দিয়ে বাইরে চলে যায়। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেনি হাইতি। তবে গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ নষ্ট করে ৮৪ মিনিটে। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড ফ্রানৎডি পিয়েরো দারুণ হেড একটু ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরা হয়নি হাইতির। শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে মেতে ওঠে স্কটল্যান্ড। এই জয়ে ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিল ও মরক্কোকে পেছনে ফেলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে স্কটিশরা।



