চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ফেনী নদীর ওপর সেতুর নির্মাণকাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। নদীর দু’পাড়ের মানুষের অনেক স্বপ্ন ছিল এই সেতু নিয়ে; কিন্তু কখন সেতুর কাজ শেষ হবে তা জানে না কেউ।
ফেনী নদীর ওপর ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতু ছাগলনাইয়া উপজেলার আলোকদিয়া ও মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের মানুষের আশার প্রতীক; কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সাড়ে পাঁচ বছর পার হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ আর হতাশায় ভুগছে এলাকাবাসী।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ফেনী নদীর ওপর মিরসরাই উপজেলার ধুম ইউনিয়নের ধুম গ্রামে ২৫২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করছে। সেতুর কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হক ট্রেডার্স। ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর সেতুর উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন মিরসরাইয়ের তৎকালীন সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালে এসেও কাজ শেষ হয়নি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর মূল অবকাঠামোর প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও দু’পাশের সংযোগ সড়কের কাজ এখনো শুরুই হয়নি। জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় এ কাজ ঝুলে রয়েছে। ফলে সেতুটি চালু হতে আরো সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে স্থানীয়রা একটি ছোট ডিঙি নৌকায় নদী পার হচ্ছেন। জনপ্রতি গুনতে হচ্ছে ১০ টাকা করে। শুষ্ক মৌসুমে নদী পারাপার কিছুটা সহজ হলেও বর্ষাকালে দুর্ভোগ পোহাতে হয় চরমভাবে। নদীর পানি বাড়লে অনেক ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়, যা সময় ও অর্থ- দুই-ই ক্ষয় করছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী নুর উল্লাহ বলেন, শুরুতে মাত্র দুই টাকা দিয়ে নৌকায় পারাপার হতাম, এখন লাগে ১০ টাকা। এত বছর ধরে সেতুর কাজ চলছে, তবুও শেষ হয়নি। আসা-যাওয়া এখন অনেক কষ্টের। সেতুটা শেষ হলে আমাদের জন্য নিরাপদ হতো।
আরেকজন ভুক্তভোগী ইব্রাহিম বলেন, আমার বাড়ি বড়দারোগা হাটে; কিন্তু মেয়ে থাকে ছাগলনাইয়ার আলোকদিয়ায়। তাকে প্রায়ই এই নদী পার হতে হয়। বৃষ্টির দিনে নৌকা পাওয়া যায় না, আবার সন্ধ্যার পরেও নৌকা চলে না। সেতুটা হয়ে গেলে শান্তিরহাট বাজার আরো উন্নত হবে, বাড়বে কেনাবেচা।
সেতুর কাজ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মিরসরাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো: দিদারুল আলম বলেন, মূলত সেতুর দু’পাশের জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় এতদিন কাজ আটকে আছে। মিরসরাই অংশে অধিগ্রহণ শেষ করে জমির মালিককে টাকাও বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ছাগলনাইয়া অংশে এখনো জমি অধিগ্রহণ হয়নি। সেখানে শিগগিরই অধিগ্রহণ শুরু হবে।
হক ট্রেডার্সের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, নদীতে সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। এখন দু’পাশে জায়গা ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে চলাচল করা যাবে। তবে জায়গা অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় একটু সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া নদীতে পাইলিংয়ের সময় নিচে কিছু অবাঞ্ছিত পদার্থ পড়েছিল, যার ফলে বোরিং করতে একটু সময় ক্ষেপণ হয়েছে। তবে সংযোগ সড়কের কাজ জমি অধিগ্রহণের ওপর নির্ভর করছে।



