গোলটেবিল আলোচনায় অভিমত

ভ্যাট ও এ আইটির ওপর নির্ভরতা মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজস্ব আহরণে পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, ব্যবসার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি হ্রাসের অন্যতম কারণ বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, করবিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারে বিডিবিএল ভবনে ‘পরোক্ষ করের ওপর অতি নির্ভরশীলতা : অর্থনীতির ওপর বহুমুখী প্রভাব’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এ মতামত উঠে আসে। ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অর্থনীতিবিদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন করবিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া (এফসিএ), পরিচালক, এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস। গোলটেবিল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, গত কয়েক বছরে সরকারের বাজেট অর্থায়নে প্রত্যক্ষ করের তুলনায় পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যেখানে প্রতিবেশী ভারতে মোট কর রাজস্বের ৫০ শতাংশেরও কম আসে পরোক্ষ কর থেকে, সেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ রাজস্ব আসে পরোক্ষ কর থেকে, যা এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, আয়করের মতো প্রত্যক্ষ কর আহরণে ব্যর্থতার কারণে সরকার তুলনামূলক সহজ পথ হিসেবে পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, তাত্ত্বিকভাবে অগ্রিম আয়কর প্রত্যক্ষ কর হলেও বাস্তবে এটি অনেকাংশে পরোক্ষ করের মতো কাজ করছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে দেখান, পণ্য ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট ও কাস্টমস ডিউটির পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপ করা হয়। একই সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রিম কর আরোপের ফলে কার্যত দ্বৈত করের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্যের দামে। সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির পেছনে ভ্যাট ও অগ্রিম আয়করের বড় ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি মত দেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমান একক ভ্যাট হার ব্যবস্থার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক চর্চার আলোকে বহুমাত্রিক ভ্যাট হার প্রবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।