ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘জি’-তে শুরুতেই হতে যাচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। আজ রাত ১টায় সিয়াটল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়াম ও আফ্রিকার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল শক্তি মিসর। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে এই ম্যাচটিকে অনেকেই গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বেলজিয়াম বর্তমানে নবম স্থানে, আর মিসরের অবস্থান ২৯ নম্বরে। তবে বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে র্যাঙ্কিং সবসময় শেষ কথা নয়, এ কথা আগেও বহুবার প্রমাণ হয়েছে।
বেলজিয়ামের জন্য এবারের বিশ্বকাপ শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং গত এক দশকের অপূর্ণ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার সুযোগ। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিভাবান দলগুলোর একটি হয়েও বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি তারা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তাদের বিদায় ছিল হতাশাজনক। উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডাকে হারালেও পরে ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর বিপক্ষে গোল করতে ব্যর্থ হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায় দলটি। বিশেষ করে সেই সময় ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞ কিন্তু বয়সী দল এবং পরে সেমিফাইনাল খেললেও মরক্কোর বিপক্ষে ব্যর্থতা বেলজিয়ামের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।
এবার নতুন কোচ রুডি গার্সিয়ার অধীনে দলটি নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। যদিও তথাকথিত ‘গোল্ডেন জেনারেশন’-এর সময় প্রায় শেষের দিকে, তবুও কেভিন ডি ব্রুইনা, থিবো কোর্তোয়া ও রোমেলু লুকাকুর মতো তারকারা এখনো বড় ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বেলজিয়াম ছিল আত্মবিশ্বাসী। তারা ২৪ সম্ভাব্য পয়েন্টের মধ্যে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থেকে মূল পর্ব নিশ্চিত করে। পুরো বাছাইপর্বে ২৯ গোল করে এবং মাত্র সাত গোল হজম করে দলটি।
মূল পর্বের আগে প্রস্তুতি ম্যাচেও ইতিবাচক পারফরম্যান্স করেছে বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র, ক্রোয়েশিয়া ও তিউনিসিয়াকে হারিয়ে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় তুলে নেয় তারা। এই সময় ১৩ গোল করে এবং শেষ দুই ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখে।
অন্য দিকে মিসরের সামনে রয়েছে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাস নতুনভাবে লেখার সুযোগ। এবারের আসর তাদের ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে তিন ম্যাচেই হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছিল ‘ফারাওরা’।
তবে এবারের পথচলা ভিন্ন। আফ্রিকান বাছাইপর্বে দুর্দান্ত আধিপত্য দেখিয়ে ১০ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। যদিও ২০২৫ আফ্রিকান নেশনস কাপের সেমিফাইনালে সেনেগালের কাছে হেরে যাওয়ার হতাশা এখনো পুরোপুরি কাটেনি, তারপরও কোচ হোসাম হাসান দলকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন। সেই হতাশার পর পাঁচ ম্যাচে দুই জয়, দুই হার ও এক ড্র করেছে দলটি।
এই ম্যাচে বাড়তি আলো থাকবে মোহাম্মদ সালাহর দিকে। তবে লিভারপুল তারকা মৌসুমের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিং সমস্যায় ভুগেছিলেন এবং পুরোপুরি ফিট নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আক্রমণে তার ওপর চাপ কমাতে ওমর মারমুশ, ত্রেজেগে ও জিজোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইতিহাস অবশ্য মিসরের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের চার দেখায় তিনবার জিতেছে মিসর, আর বেলজিয়াম জিতেছে মাত্র একবার। সর্বশেষ ২০২২ সালের প্রীতি ম্যাচেও ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল মিসর।
সম্ভাব্য একাদশে বেলজিয়ামের আক্রমণে দেখা যেতে পারে ট্রসার্ড, ডি ব্রুইনে, ডকু ও লুকাকুকে। মাঝমাঠে অনানা-টিলেমানস জুটি ভারসাম্য আনবে। অন্য দিকে মিসরের গোলবারে থাকবেন মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি। রক্ষণে ইয়াসের ইব্রাহিম ও রামি রাবিয়া জুটি এবং মাঝমাঠে হামদি ফাথি ও মোহানাদ লাশিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে পারেন।



