হরমুজ প্রণালী বন্ধে সবচেয়ে বেশি লাভবান যুক্তরাষ্ট্র

Printed Edition

রয়টার্স

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় পুরো বিশ্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও, এর ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো এক ধরনের প্রতিযোগিতাহীন সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে তীব্র সঙ্কটের মাঝে উচ্চমূল্যে জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ পেয়েছে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান রসনেফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইগর সেচিন দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন নিজের স্বার্থে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে (এসপিআইইএফ) বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সেচিন এসব কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধের পদক্ষেপ মূলত ইরানকে লক্ষ্য করে নেয়া হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বের ওপর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে তেহরান। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং সারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের প্রধান রুট এটি।

সেচিন বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের নিয়মকানুন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে পুনর্গঠনের একটি প্রচেষ্টা এবং এই পদক্ষেপের কৌশলগত ঝুঁঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজের পর মালাক্কা, বাব এল-মান্দেব ও জিব্রাল্টার প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোও ভবিষ্যতে বিঘেœর ঝুঁঁকিতে পড়তে পারে।

কমছে ওপেক সক্ষমতা

বক্তব্যে সেচিন ওপেক প্লাস জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জোট ত্যাগ এবং এর আগে কাতারসহ কয়েকটি দেশের বেরিয়ে যাওয়ার ফলে ওপেক প্লাসের কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা কমে গেছে। গত এক দশকে জোটভুক্ত দেশগুলোর মোট উৎপাদন দৈনিক ৫৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে কমে ৩৭ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে।

সেচিনের দাবি, ২০১৬ সালে ওপেক প্লাস চুক্তি স্বাক্ষরের পর অধিকাংশ সদস্য দেশ উৎপাদন বাড়ালেও রাশিয়ার তেল উৎপাদন দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেল কমেছে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস।