আলি জামশেদ বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের নিকলীর ধনু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। এতে বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। বালুখেকোদের তাণ্ডবে গত ৫০ বছরে দেড় কিলোমিটার এলাকার অন্তত দুই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকাছাড়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দিনরাত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। ফলে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদী তীরবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ভরা বর্ষায় ভাঙন আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন নদী পাড়ের বাসিন্দারা।
হাওরের প্রবেশদ্বারখ্যাত নিকলী-বাজিতপুর বর্ষা মৌসুমে একদিকে নদী ভাঙন অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলে কৃষকের ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। বসতভিটা হারাচ্ছে নদী পাড়ের বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনকে জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেয়া হয় না। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চললেও অদৃশ্য সুতোর টানে পুনরায় শুরু হয় বালু উত্তোলন। এ বালুসন্ত্রাস বন্ধ না হলে মানচিত্র থেকে সিংপুর ও মুসাফপুর চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিন দেখা গেছে, নিকলীর সিংপুর ও ভাটিভরাটিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ এখন ধনু নদীর পেটে। স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ মেনু মিয়া বলেন, ৫০ বছর ধরে গ্রাম ভাঙছে। নদীভাঙন রোধে কেউ এগিয়ে আসেনি, উল্টো গ্রাম ধ্বংস করে বালু নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয়দের দাবি, সিংপুরের পাটুলির কান্দা থেকে কাশিপুর ঘোড়াঘাটের কদমঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ একর আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মুসাফপুর এলাকায় এম বিছাল ছাবিল নামক একটি ড্রেজার দিয়ে নির্বিচারে বালু তুলছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এই ড্রেজারের বিরুদ্ধে এর আগেও বালু উত্তোলন ও জরিমানার অবিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, চারজন কর্মচারী দিয়ে নিয়মিত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই ড্রেজারের অন্যতম মালিক খাইরুল ইসলামের বাড়ি মিঠামইন সদরে। জানা যায়, তিনি মিঠামইন থানা আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতির স্বজন। এ পরিচয়ে দাপটের সাথে কার্যক্রম চালিয়েছেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের অসাধু নেতাকর্মীদের সাথে যোগসাজশে তিনি এই অবৈধ কারবার চালু রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরেক ড্রেজার মালিক সালাউদ্দিন বালু উত্তোলনের সত্যতা স্বীকার করে জানান, এই সিন্ডিকেটে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দারসহ অনেক প্রভাবশালী নেতাকর্মী জড়িত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে ড্রেজার মালিক খাইরুল ইসলামের সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোকাররম সর্দারের ফোনে কল করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি বলেন, নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



