বিশেষ সংবাদদাতা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের ঋণের কিস্তি প্রাপ্তি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তাদের সাথে দেন-দরবারে কয়েকটি বিষয়ে সমাধান হয়নি। আগামী দুই সপ্তাহে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আইএমএফের হ্যাঁ বা না বলার সুযোগ নেই। বিষয়টি এমন না আলোচনা আজকে শেষ, সামনে আরো আলোচনা হবে। সবাইকে বুঝতে হবে এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি আইএমএফ।
গতকাল ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংক আইএমএফের চলমান বসন্তকালীন বৈঠকে সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নাইজেল ক্লার্কের সাথে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ঋণের শর্ত পূরণ না করার কারণে আইএমএফ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কিস্তি না করে দিয়েছে। এমন একটা সংবাদের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, যিনি এমন সংবাদ লিখেছেন তাকে এর উত্তর দিতে হবে আমার এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। দেশের স্বার্থ রক্ষা করে আইএমএফের সাথে আলোচনা এগিয়ে নেবে বাংলাদেশ।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, আইএমএফের সাথে বাংলাদেশের ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে যা আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এরই মধ্যে অনেকগুলো বিষয় সফলভাবে সমাধান করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভায়, এই ঋণের অর্থ ছাড় নিশ্চিতের চেষ্টা ছিল অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের। ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়া বৈঠকের পঞ্চম দিনে, আইএমএফের ডিএমডি নাইজেল ক্লার্কের সাথে বৈঠকেও গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয় ঋণের কিস্তি ছাড়ের বিষয়টি।
উল্লেখ্য, আইএমএফের সাথে বর্তমানে বাংলাদেশের ৫৫০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ৪৭০ কোটি ডলার দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। মাঝখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুনে ৮০ কোটি ডলার বাড়ানো হয়। আইএমএফ থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা।
বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার, যা থেকে ষষ্ঠ কিস্তির ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড় পাওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বরে। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক বৈঠক শেষে তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, এ কিস্তি ছাড়ের আলোচনা আইএমএফ নির্বাচিত সরকারের সাথে করবে। এটি আগামী জুনে পাওয়া যেতে পারে বলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন ঋণের শর্ত পরিপালন না করায় এই কিস্তি সময়মতো পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।



