ব্রির অরাজকতা তদন্তে কমিটি গঠনে স্বস্তি বিজ্ঞানীদের

নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর

Printed Edition

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অরাজকতা, কক্ষে কক্ষে তালা ঝুলানো, প্রশাসনিক কাজে বাধা এবং গবেষণা পরিবেশ বিঘিœত হওয়ার ঘটনায় অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। বুধবার নয়া দিগন্তে এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (‘সঙ্কটে ব্রি : বাড়ছে প্রশ্ন, চাপা পড়ছে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত’ শীর্ষক) প্রকাশের পরদিনই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের অফিস আদেশ জারি করা হয়। বিষয়টিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ব্রির সাধারণ বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি বড় অংশ। তাদের আশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে প্রতিষ্ঠানে আবারও স্বাভাবিক গবেষণা পরিবেশ ফিরে আসবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা-৩ অধিশাখা থেকে ২০ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, ব্রির মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পদায়নকে কেন্দ্র করে গত ৩ মে এবং পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পিপিবি অধিশাখার যুগ্মসচিবকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সদস্য পরিচালক (এইআরএস) ও ব্রির চিফ সায়েন্টিফিক অফিসারকে সদস্য (এফএমপিএইচটি) এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা-৩ অধিশাখার উপসচিবকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, ব্রিতে সংঘটিত অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের চিহ্নিতপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে করণীয়ও সুপারিশ করতে হবে।

এর আগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রিতে মহাপরিচালক পদকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অবস্থান, প্রশাসনিক অচলাবস্থা এবং গবেষণা কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। ৪ মে ড. আমিনুল ইসলাম মহাপরিচালকের রুটিন দায়িত্ব গ্রহণ করতে গেলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কি এবং বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলানোর ঘটনা ঘটে। পরে তার দায়িত্ব পরিবর্তন করে নতুন অফিস আদেশ জারি করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।

ব্রির একাধিক বিজ্ঞানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও হতাশাজনক ছিল। তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অন্তত একটি বার্তা গেছে যে সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে।”

বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করছেন, শুধু সাম্প্রতিক অরাজকতার ঘটনাই নয়, বরং নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার সংক্রান্ত পুরোনো অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রয়োজন।