ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয় পায় ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত দল এনসিপি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এই দলটি বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতি করছে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সংসদে প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে এনসিপি এখন জোটের বড় শরিক জামায়াতের কাছ থেকে বাড়তি দু’টি আসন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে, যা সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। আইন অনুযায়ী, প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বরাদ্দ থাকে। সেই হিসাবে- বিএনপি জোট ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্র একটি আসন পাবে। এনসিপি যেহেতু ছয়টি আসনে জিতেছে, তাই তাদের প্রাপ্য আসন মাত্র একটি। তবে দলটির নেতারা বলছেন, জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর সাথে তাদের ইতিবাচক আলোচনা চলছে। তারা অন্তত তিনটি সংরক্ষিত আসন নিশ্চিত করতে চান। আনুপাতিক হিসাবের বাইরে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এনসিপিকে বাড়তি আসন দেয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে আইনি ও কৌশলগত পর্যালোচনার কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
আলোচনায় যারা
দলীয় সূত্র বলছে, সংরক্ষিত আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজন নেত্রীর নাম গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে। তারা হলেন- মনিরা শারমিন, ডা: মাহমুদা আলম (মিতু) এবং নুসরাত তাবাসসুম। মনিরা শারমিন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্য দিকে ডা: মাহমুদা আলম (মিতু) দলের যুগ্ম সদস্য সচিব। তিনি ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়ন পেলেও জোটের স্বার্থে সরে দাঁড়িয়ে দলের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আর নুসরাত তাবাসসুম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ও সমন্বয়ক। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ডিবি হেফাজতে থাকা সমন্বয়কদের মধ্যে তিনিই ছিলেন একমাত্র নারী।
এ ছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, হুমায়রা নুর, দিলশানা পারুল এবং নাবিলা তাসনিদের নামও আলোচনায় রয়েছে। এনসিপির এক শীর্ষ নেতা জানান, যারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে দল গোছাতে কাজ করেছেন, মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে তারাই অগ্রাধিকার পাবেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের মনোনয়ন দেয়া হলে ভেতরে অসন্তোষ তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, এনসিপি থেকে একাধিক নারী প্রতিনিধি সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এ বিষয়ে জোটসঙ্গীদের সাথে বসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এ দিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের এনসিপিকে সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানান, আলোচনার মাধ্যমেই আসন বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুবুর রহমানের মতে, সংসদে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা নিশ্চিত করতে হলে শুধু সংখ্যা নয়, গুণগত উপস্থিতিও জরুরি। তিনি বলেন, এনসিপির তরুণ সদস্যরা এরই মধ্যে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জোট যদি তাদের দুই-তিনটি আসন ছেড়ে দেয়, তবে তা সংসদীয় বিতর্ক ও বিরোধী শিবিরের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে। তরুণ ও কর্মক্ষম মুখের উপস্থিতি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সহায়ক হবে।
সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে এনসিপির কৌশল এখন দ্বিমুখী- একদিকে জোটের মাধ্যমে শক্তি বাড়ানো, অন্য দিকে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের মাধ্যমে দলের ইমেজ অক্ষুণœ রাখা। মে মাসের ভোটেই স্পষ্ট হবে, সংসদের এই সমীকরণে এনসিপির পাল্লা কতটা ভারী হচ্ছে।



