সাংবাদিক নেতাদের হুঁশিয়ারি

ফ্যাসিবাদী জনকণ্ঠকে জবাবদিহিতার আওতায় আসতে বাধ্য করা হবে

Printed Edition

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম বলেছেন, শেখ হাসিনাক ফ্যাসিবাদি হয়ে উঠতে সহায়তাকারী জনকণ্ঠ এখনো ফ্যাসিবাদিদের পক্ষে কাজ করে চলেছে। পলাতক হাসিনা এবং তার দোসরদের ইন্ধনে দেশপ্রেমিক সাংবাদিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বেআইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং গণহারে ছাঁটাই ও শোকজ দিয়ে চলেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সাংবাদিকসমাজ অবিলম্বে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে আইন মেনে জবাবদিহিতার আওতায় আসতে বাধ্য করবে।

গতকাল দুপুরে দৈনিক জনকণ্ঠে অবৈধ গণ-ছাঁটাই, কারণ দর্শানোর চিঠি প্রদান, হয়রানি বন্ধ এবং অবিলম্বে পত্রিকা অফিস খুলে দেয়ার দাবিতে দৈনিক জনকণ্ঠ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে জনকণ্ঠ ভবনের সামনে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি। অবিলম্বে ছাঁটাইকৃতদের ছাঁটাইপত্র ও শোকজপত্র প্রত্যহার, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ, হয়রানি বন্ধ এবং পত্রিকা অফিস খুলে দেয়ার দাবি জানান দিদারুল আলম।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, জনকণ্ঠের কুকর্মের ইতিহাস অনেক পুরনো। আগে স্বৈরাচারী হাসিনা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিত, ভারতের টাকায় জনকণ্ঠ তাদের তাঁবেদারি করত। এখনো তারা কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে জানা দরকার। জনকণ্ঠের নির্যাতনে অনেক সাংবাদিক হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন উল্লেখ করে সালেহ আকন বলেন, সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে আঙুল বাঁকা করা হবে। সাংবাদিক নেতাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা না হলে তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি করেন তিনি।

অবস্থান কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন- দৈনিক জনকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক ও ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির জারিফ, বিশেষ প্রতিনিধি ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ জসিম, মহাব্যবস্থাপক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

জনকণ্ঠের মালিকদের ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, পত্রিকাটির ওপর এখনো ভারতীয় গোয়ন্দা সংস্থা ও আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা ঘাপটি মেরে বসে আছে।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একজন প্রতিনিধিকে পত্রিকাটি হর্তা-কর্তা বানিয়ে তার মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সাংবাদিক-কর্মচারীদের গণহারে ছাঁটাই করা হচ্ছে।

অবিলম্বে ছাঁটাই ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার এবং পত্রিকা চালু করা না হলে মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান সোহেলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পত্রিকা অফিস ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি।