ডলারের দাম ৬ সপ্তাহের সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের মূল্যও বাড়ছে

Printed Edition

রয়টার্স

ইরান যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সুদের হার আরো বাড়াতে পারে- এই আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বৃদ্ধির সাথে সাথে বুধবার মার্কিন ডলারের মান বেড়ে গেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে ডলারের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ সীমার কাছে পৌঁছেছে। একই সাথে, জ্বালানি তেলের দামও আন্তর্জাতিক বাজারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডলারের মূল্য আরো বাড়লে আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো, যেমন- বাংলাদেশ, অর্থনৈতিক চাপের মুখোমুখি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অন্য দিকে জাপানি ইয়েনের দর আজ আবার কমেছে। ইয়েনের এই পতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে টোকিওর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কখন শেষ হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ায় বৈশ্বিক বন্ডবাজারে বিক্রির চাপ দেখা দিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আবার হামলা চালাতে পারে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সাথে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। এই উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক বাজার অস্থির এবং জ্বালানি তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ প্রতি ইউরোর দাম ১ দশমিক ১৬০৮ ডলার। আগের দিন তা ৮ এপ্রিলের পর সর্বনি¤œ অবস্থানে নেমেছিল। ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ছিল ১ দশমিক ৩৩৯৮ ডলার; ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি। বৈশ্বিকভাবে ঝুঁকিপ্রবণ মুদ্রা হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলীয় ডলার শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৭০৯৭ ডলারে। নিউজিল্যান্ডের ডলার কমেছে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ, মান দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৫৮২২ ডলারে।

বিশ্বের প্রধান ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে যে ডলার ইনডেক্স প্রণয়ন করা হয়, আজ তার মান ৯৯ দশমিক ৩০৬ পয়েন্টে স্থির আছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে- এমন প্রত্যাশায় মে মাসে সূচকটি ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৫০ শতাংশের বেশি- বাজার এমনটাই ধারণা করছে। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে বাজারের ধারণা ছিল, তার আগে অন্তত দুবার সুদহার কমানো হতে পারে। ফেডের সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকেও নজর রয়েছে বিনিয়োগকারীদের।