নয়া দিগন্ত ডেস্ক
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কোনো নাগরিক ভারতের নাগরিকত্ব নিতে চাইলে, তাদের নিজ দেশের পাসপোর্ট জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ২০০৯ সালের নাগরিকত্ব বিধি সংশোধন করে ১৮ মে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন এই নিয়ম চালুর কথা ঘোষণা করেছে।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, আবেদনকারীর কাছে নিজ দেশের বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পাসপোর্ট রয়েছে কি না, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। পাসপোর্ট থাকলে তার নম্বর, ইস্যুর তারিখ, স্থান এবং মেয়াদের উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে তার কাছে থাকা বৈধ কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ মূল পাসপোর্টটি ডাক বিভাগের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট বা সুপারিনটেনডেন্টের কাছে জমা দিতে হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’ জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মটি নাগরিকত্ব বিধিমালার ‘১সি’ তফসিলের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদের পর যুক্ত হবে। এই ‘১সি’ তফসিলটি মূলত বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে গিয়ে নাগরিকত্ব পেতে চাওয়া অমুসলিম (হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টান) সংখ্যালঘুদের জন্য প্রযোজ্য।
এদিকে ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপটি সামনে এলো। পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় অংশজুড়ে বসবাস করেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ, যারা ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) মূল সুবিধাভোগী।
সংবাদমাধ্যমটি আরো উল্লেখ করেছে, বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া অধিকাংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেই নাগরিকত্বের আবেদন করার মতো পর্যাপ্ত নথিপত্র থাকে না। ২০১৯ সালে পাস হওয়া এই সংশোধিত আইনটি মূলত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কার্যকর করা হয়েছিল। ওই আইন অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া নথিহীন অমুসলিম অভিবাসীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সুগম করা হয়। তবে সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, একজন আবেদনকারীকে নিজেকে বিদেশী হিসেবে ঘোষণার পাশাপাশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের সরকারি কর্তৃপক্ষের দেয়া এমন একটি নথি বা প্রমাণ দাখিল করতে হবে, যা দ্বারা তার আদি উৎস প্রমাণিত হয়। এ ছাড়া এই আইনে স্থানীয় পুরোহিত বা খ্যাতিসম্পন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে আবেদনকারীর ধর্মীয় বিশ্বাস প্রত্যয়ন করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
‘দ্য হিন্দু’র মতে, আইনটি মূলত নথিহীন অভিবাসীদের সুবিধার্থে আনা হলেও, সংশোধিত বিধিমালায় আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আগের চেয়ে বেশ কিছু বাড়তি নথিপত্র জমা দেয়ার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে, গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকত্ব আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে চারটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল।



