নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বে আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। দেশে বছরে ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন আম উৎপাদিত হলেও রফতানিতে এখনো কাক্সিত সাফল্য আসেনি। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্তত ২৬টি দেশে বাংলাদেশী আম রফতানি হচ্ছে। নিরাপদ ও রফতানিযোগ্য আম উৎপাদনে গড়ে উঠেছে শত শত গ্যাপভিত্তিক বাগান, তৈরি হয়েছে নতুন উদ্যোক্তাও। তবু উচ্চ বিমানভাড়া, কার্গো সঙ্কট, কোল্ডচেইন ও আধুনিক প্যাকহাউজের অভাব, দুর্বল অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের নীতিগত জটিলতায় সম্ভাবনাময় এই খাত এগোতে পারছে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে বিদেশে আম রফতানির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সৌদি আরবসহ পাঁচ দেশে সাত টন আম রফতানির উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ।
রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, ২০২২ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আওতায় ‘রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্প’ শুরু হয়। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চলমান এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় উত্তম কৃষি চর্চা, আধুনিক বাগান ব্যবস্থাপনা, সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি ও বাজারসংযোগ জোরদার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪৬ উপজেলায় ২ হাজার ৬১৫টি গ্যাপভিত্তিক প্রদর্শনী এবং ২ হাজার ৪৭টি রফতানিযোগ্য আমবাগান গড়ে তোলা হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল ও পাকিস্তানের পর আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। তবে বৈশ্বিক ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলারের আমবাজারে বাংলাদেশের রফতানি এখনো খুবই সীমিত।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ রফতানি করেছে মাত্র ২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন আম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে দেশে আম উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ২১ লাখ ৪৩ হাজার টন, রফতানি হয়েছিল মাত্র ২০৯ টন। ২০২৫ সালে উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ লাখ ৬২ হাজার টনে, আর রফতানি হয়েছে দুই হাজার ১৯৪ টন। চলতি বছর প্রায় ২৭ লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালে দেশে রেকর্ড ৩ হাজার ১০০ টন আম রফতানি হয়েছিল। এবার সেই রেকর্ড ভাঙার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে রফতানিকারক ও উদ্যোক্তারা বলেন, আম রফতানির বড় বাধা এখনো কার্গো ও পরিবহনব্যবস্থা। বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবল অ্যালাইড প্রোডাক্ট এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, বিমানের ভাড়া অন্য দেশের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। প্রয়োজনীয় কার্গো বিমান না থাকায় পচনশীল পণ্য রফতানিতে ব্যবসায়ীরা বড় সমস্যায় পড়ছেন। পাশাপাশি কোল্ডস্টোরেজ, প্রি-কুলিং ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবেও রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আব্দুস ছালাম বলেন, পর্যাপ্ত কোল্ড চেম্বার ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়া রফতানি বাড়ানো সম্ভব নয়। একইভাবে অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ কেনেডি বলেন, প্রি-কুলিং, কোলিং ও কার্গো ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া আম রফতানিতে বড় অগ্রগতি সম্ভব নয়। কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য রফতানিতে নানা প্রশাসনিক জটিলতায় উদ্যোক্তারা দুর্ভোগে পড়ছেন। বিমানের উচ্চ ভাড়া ও কার্গো সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। তিনি জানান, রফতানি ভাড়া কমানো এবং নতুন কার্গো সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে। একই সাথে কৃষিপণ্য রফতানিতে প্রণোদনা দেয়ার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।



