দ্য গার্ডিয়ান
অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যবসা পরিচালনার ক্রমবর্ধমান খরচের কারণে ব্রিটেনের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন স্থায়ী কর্মী নেয়ার ক্ষেত্রে পিছু হটছে। এর বিকল্প হিসেবে তারা অস্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। দেশটির মানবসম্পদ খাতের শীর্ষ দুই সংস্থা কেপিএমজি এবং রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট কনফেডারেশনের (আরইসি) সাম্প্রতিক এক যৌথ প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
স্থায়ী পদে ধস, ঝুঁকছে খণ্ডকালীন কাজে
গত মে মাসে ব্রিটেনে অস্থায়ী চাকরির বাজার বেশ চাঙা হয়ে উঠলেও স্থায়ী কর্মী নিয়োগের হার গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে হ্রাস পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখার বাড়তি খরচের চাপই কোম্পানিগুলোকে স্থায়ী নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। আরইসির প্রধান নির্বাহী নিল কারবেরি জানান, উচ্চ ব্যয়ভার, উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্কট এবং কর্মসংস্থানসংক্রান্ত নতুন আইনি কড়াকড়ির মুখোমুখি হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো স্থায়ী জনবল কাঠামো বাড়ানোর গতিতে লাগাম টেনেছে। ফলে তৈরি হওয়া শূন্যতা এখন পূরণ করা হচ্ছে অস্থায়ী কর্মী দিয়ে।
প্রার্থী বাড়লেও বাড়েনি বেতন
মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ৪০০টি নিয়োগ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর চালানো এই জরিপে দেখা গেছে, বিভিন্ন সংস্থায় ছাঁটাই বেড়ে যাওয়া এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ায় বাজারে চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তবে প্রার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে চাহিদা না থাকায় এবং কোম্পানিগুলোর বাজেট সীমিত হওয়ায় নতুন ও অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির হার ছিল বেশ সীমিত।
সঙ্কটে তরুণ প্রজন্ম
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ব্রিটেনে বেকারত্বের হার অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যার বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির সূচক নিম্নমুখী। এ ছাড়া অন্য এক খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে শিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থান- কোনোটির ভেতরেই নেই এমন তরুণের সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। খুচরা বিক্রয় জায়ান্ট ‘নেক্সট’-এর প্রধান নির্বাহী সাইমন উলফসনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করেছেন যে, প্রবেশকালীন বা এন্ট্রি-লেভেলের চাকরি নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার কারণে তরুণদের মাঝে বেকারত্ব প্রকট হচ্ছে।



