মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা

অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বহুমাত্রিক প্রভাবের শঙ্কা

Printed Edition
ইরানযুদ্ধের আঞ্চলিক ও বাংলাদেশ প্রভাব শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন : নয়া দিগন্ত
ইরানযুদ্ধের আঞ্চলিক ও বাংলাদেশ প্রভাব শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে গতকাল একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে এর বহুমাত্রিক প্রভাবের ওপর আলোকপাত করা হয়। রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ হাসান নাসির। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যেকোনো বড় ধরনের সঙ্ঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা তৈরি করতে পারে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. এ এম এম শাহিদুজ্জামান কুরাইশী বলেন, ‘ইরান সঙ্কট বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং জ্বালানি খাতের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মরত রয়েছেন, তাই তাদের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একইসাথে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘিœত হলে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।’ সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, এই সম্ভাব্য সঙ্কট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে অবশ্যই ‘কূটনৈতিক ভারসাম্য’ বজায় রাখতে হবে। একইসাথে বিকল্প জ্বালানির উৎস সন্ধানসহ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে রক্ষা করতে আগাম কৌশল গ্রহণ করতে হবে। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তারা বাংলাদেশের করণীয় নিয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন। তার মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের বিকল্প উৎস এবং জরুরি মজুদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা।

তৈরি পোশাকসহ (আরএমজি) প্রধান রফতানি পণ্যগুলোর জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প বাজার তৈরি করা। সমাপনী বক্তব্যে নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) মোহাম্মদ হাসান নাসির সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি সঙ্কটের সময়ে জাতীয় ঐক্য এবং দূরদর্শী নীতি নির্ধারণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সেমিনারটি সমন্বয় করেন নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সচিব ও রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এহসান মাহমুদ জুবায়ের, জয়নুল আবেদিন, মারদিয়া মমতাজ, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, অধ্যাপক ড. ওয়ারেসুল করিম, দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম, বিডিজবসের সিইও ফাহিম মাশরুর এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার তুষার। সেমিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।