নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা: আতিক শাহরিয়ারকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগ ছাড়া অন্য সব চিকিৎসাসেবা ও কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়।
গত ৪ জুন বিকেলে নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন কাহালু উপজেলার জামগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর দেবখন্দ গ্রামের বাবুল, মালেক, লিটন, ময়নুল, আকাশ, মোজাহিদ ও জিহাদ।
ডা: আতিক শাহরিয়ার অভিযোগ করে বলেন, কাহালু উপজেলার জামগ্রাম ইউনিয়ন থেকে মারজান নামের এক বিষপানকারী রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি রোগীকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেন এবং স্টোমাক ওয়াশের ব্যবস্থা করেন। তবে সরকারি নিযুক্ত ওয়ার্ডবয় না থাকায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীদের ডাকার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এতে কিছুটা সময় লাগায় তিনি রোগীকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় নেয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি আরো বলেন, এ কথা শুনে রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এত বড় হাসপাতালে এই ব্যবস্থা নেই কেন?’ একপর্যায়ে তারা তার ওপর চড়াও হন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তোফাজ্জল হোসেন বলেন, কর্তব্যরত ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা: আতিক শাহরিয়ারের ওপর হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ দিকে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা: খুরশীদ আলম বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে জরুরি বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।



