পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা ওসিসহ গুলিবিদ্ধ ৩, প্রাণহানি ৪

Printed Edition

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের আগে বা ভোটগ্রহণের দিন বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও গোলাগুলি শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এক ওসি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি হামলায় একাধিক লাশ পড়েছে।

উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালির ন্যাজাটে দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ওসি ভরত প্রসূন করসহ তিন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তুলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার জেরে অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সহিংসতায় বীরভূমের নানুর থানার সন্তোষপুর গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি আবির শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্য দিকে কলকাতার বেলেঘাটায় নির্বাচনের দিন তৃণমূলের এক বুথ এজেন্টকে হত্যার অভিযোগও সামনে এসেছে। বিজেপির পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ উঠেছে; নিউ টাউন এবং হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে পৃথক ঘটনায় দুইজন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন বলে দলটি দাবি করেছে। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এ দিকে তৃণমূল সংসদ সদস্য ডেরেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, মধ্য কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে পুলিশের অনুমতিসাপেক্ষেই মাংসের দোকান ভাঙতে বুলডোজার আনা হয়েছে। জয়ের উৎসব হিসেবেই তা করা হয়েছে এবং সিএপিএফ কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি বিশ্ববাসীকে এই ছবি দেখার আহ্বান জানান। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিজয় মিছিলের জন্য অনুমতি থাকলেও বুলডোজার নেওয়ার অনুমতি দেয়া হয়নি এবং তারা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। সন্দেশখালির ন্যাজাটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে বর্তমানে ওসি ও দুই কনস্টেবল চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও পুলিশি টহল বিরাজ করছে। ভোট পরবর্তী এই সহিংসতা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী আরো দুই মাস অবস্থান করার কথা থাকলেও, তাদের উপস্থিতিতে এই সংঘর্ষ ও লাশের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।