৬ নবজাতকের মৃত্যু

প্রতি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা দিতে সম্মত আদ-দ্বীন

Printed Edition

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যাওয়া ছয় নবজাতকের প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উভয় পক্ষের যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে এই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টে নিজ চেম্বারে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি জানান, প্রত্যেক পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার পাশাপাশি পূর্বে ঘোষিত অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বহাল থাকবে। নির্ধারিত এই ক্ষতিপূরণের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মে ভোররাতে আদ-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চিকিৎসাধীন ছয় শিশু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে তাদের মৃত্যু হয়। দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের মুখে গঠিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার চিত্র তুলে ধরেছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় ওয়ার্ডের বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়ে যায়, যা শিশুদের মৃত্যুর সম্ভাব্য প্রধান কারণ। এ ছাড়া ঘটনার সময় (ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা) ওয়ার্ডে কোনো দায়িত্বরত চিকিৎসক ছিলেন না। সরেজমিন পরিদর্শন, ভিকটিমদের পরিবার, চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত দিয়েছে যে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অবহেলা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ৪ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতর আদ-দ্বীন হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠায়। ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, শোকজের লিখিত জবাব দিতে এবং আইনজীবীকে সামনে রেখে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৯ জুন পর্যন্ত এই সময় প্রার্থনা করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ৯ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমা বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।