গাড়ি থামিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যেতে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত, আলোচনায় তিস্তাও

Printed Edition
পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত, আলোচনায় তিস্তাও
পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত, আলোচনায় তিস্তাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের বিষয়ে শিগগিরই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা জরিপ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া তিস্তা প্রজেক্ট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের স্টাডি রিপোর্ট, সমীক্ষা ও সম্ভাব্যতা জরিপ শেষ হয়েছে, শিগগিরই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক কমিশনে উপস্থাপন হবে। আমরা আশা করছি যে, এই প্রজেক্টটি শিগগিরিই একনেক সভায় উপস্থাপন হবে, আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

গতকাল সকাল ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পানিসম্পদ ব্যবস্থার আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে খাল-খনন, শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচসুবিধা নিশ্চিতকরণ, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক সভায় শুষ্ক মৌসুমে পানি সমস্যা সমাধানের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা যাতে জমিতে সেচের সুবিধা পায়, সারা দেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পরে অপেক্ষামাণ সাংবাদিকদের কাছে পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সচেয়ে বড় প্রজেক্ট পদ্মা ব্যারাজ, সেটার স্টাডি রিপোর্ট, কারিগরি দিক, সমীক্ষা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। একনেক সভা যেদিন হবে সেদিন প্রকল্পটি উপস্থাপন হবে। তার আগ পর্যন্ত আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কী কী কাজ সম্পন্ন করা দরকার ইমিডিয়েট সেটা নিয়ে আমরা বিশেষ আলোচনা করেছি। কারণ এই পদ্মা ব্যারাজটি বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ জনগণের সুবিধার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় আমরা আমাদের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে এই প্রজেক্টটি নিয়ে কথা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রজেক্টে আমাদের নর্থ বেঙ্গলের প্রায় ২৪টি জেলার জনসাধারণ খুব বেশি উপকৃত হবেন এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যে এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। শুধু ইরিগেশন নয়, সব দিক বিবেচনায় জনস্বার্থে এই প্রজেক্টটি সারা বাংলাদেশের পানির প্রবাহ সুগর্ভস্থ পানির লেভেল, মৎস্য চাষ এবং কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে সব দিকে সবাইকে আমরা কিভাবে সমন্বয় করতে পারি সেই দিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি।

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প ছাড়াও তিস্তা প্রজেক্ট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রজেক্টটি নিয়েও প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। যেহেতু এটার ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতোমধ্যে চলছে। আরো বেশি স্টাডি করতে হবে। কারিগরি দিক, সমীক্ষা সবকিছু বিবেচনা করে আমরা কী বেনিফিট দিয়ে ওই এলাকার মানুষ, দেশবাসীকে আমরা সম্পৃক্ত করব সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, খাল-খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল-খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ১৬ মে চাঁদপুরে ও ২৫ মে ফেনীতে যাবেন।

রোগীর জন্য গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী : নিজের গাড়িবহর থামিয়ে রোগীর অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সকালে গুলশানের বাসা থেকে সচিবালয়ে আসার সময়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাওরান বাজারের প্রান্তে এটা হয়েছে বলে জানান তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কাওরানবাজারের কাছে পথ দিয়ে চলার সময়ে হঠাৎ গাড়ির লুকিং গ্লাসে দেখেন যে, বহরের পেছনে একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এটা দেখে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন, যেন দ্রুত অ্যাম্বুলন্সেটি যেতে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশে বহর থামিয়ে অ্যাম্বুলন্সটি যেতে পথ করে দেয়া হয়। অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। সকাল ৯টার কিছু আগে যখন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাওরানবাজার প্রান্তে। প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন, এই সময়ে এই ঘটনা।

কাওরানবাজারের কাছে প্রাইভেট কারে মতিঝিলে আসা একটি বেসরকারি বীমা কোম্পানির কর্মকর্তা সালেহ উদ্দিন বলেন, ওই সময়ে আমিও প্রধানমন্ত্রীর বহরের পেছনে ছিলাম। হঠাৎ সব গাড়ি থেমে গেছে। ভিভিআইপি নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা যখন অ্যাম্বুলেন্সটিকে বহরকে সাইড করে এগিয়ে দিচ্ছিলেন তখন আমার মনটা খুশিতে ভরে উঠেছে। এটা একটা মানবিক দৃষ্টান্ত। সাধারণত সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা যখন সড়ক পথ অতিক্রম করতেন তখন যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হতো না। জনগণকে দীর্ঘ সময় যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই অবস্থা থেকে যাত্রী সাধারণা মুক্ত হয়েছেন। আজকে একজন মুমূর্ষু রোগীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকে পথ করে দিয়ে আরেকটা উদাহরণ সৃষ্টি করলেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের প্রতি একজন সরকার প্রধানের দায়িত্ববোধ এবং সহমর্মিতা এটি সবার জন্য শিক্ষণীয় বার্তা বলে মন্তব্য করেন সালেহ উদ্দিন।

জনস্বার্থে নেয়া কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনস্বার্থে নেয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনের সমাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসব ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়। এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সব যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। জনগণ যদি মালিক হয় তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস আদালতে তাদের সমস্যা নিয়ে যান, তারা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি।

তিনি বলেন, একজন সাধারণ মানুষ যখন কোনো সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পুরো সরকারব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। ধরা যাক, একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর, তিনি যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে, কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান তাহলে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না; বরং রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস নষ্ট হয়।