বাজেটে সব সময় শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হয় : অধ্যাপক মুজিব

Printed Edition
জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত
জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশের বাজেটে সবসময় শ্রমিকরা বৈষম্যের শিকার হয়। এবারের বাজেটে আমরা শ্রমিক বৈষম্যের অবসান চাই। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে সবাই শ্রমিক অধিকারের কথা বললেও অতীতের সব সরকার শ্রমিকদের অধিকার হরণ করেছে, যার ফলে বিগত ৫৪টি বাজেটেই শ্রমিকদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ‘শ্রমিকের বাজেট ভাবনা’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো: তসলিমের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তৃতা করেন, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, কবির আহমেদ, গোলাম রাব্বানী, মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসাইন, মুহিবুল্লাহ, দফতর সম্পাদক নুরুল আমিন, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

অধ্যাপক মুজিব আরো বলেন, বাজেট হচ্ছে প্রশাসক ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যকার একটি বার্ষিক অর্থনৈতিক চুক্তি, যা প্রতি বছর জাতীয় সংসদে পাস হয়। আগামী ৭ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি সচল রাখার মূল শক্তি শ্রমিক সমাজ হলেও বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি বা শ্রমজীবী মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয় না এবং শ্রমিক কল্যাণ খাতে বরাদ্দও অত্যন্ত কম রাখা হয়। তিনি মনে করেন, বাজেট যদি একপক্ষীয় না হয়ে শ্রমিক ও প্রশাসনের উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ করে প্রণয়ন করা হতো, তাহলে তা দেশের জন্য আরও কল্যাণকর হতো।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশ ৫৪টি বাজেট দেখেছে এবং আগামী বাজেট পেশ হলে তা হবে ৫৫তম বাজেট। তিনি সংবিধানের ১৪ ও ১৫ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, সেখানে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে আজো শ্রমিকরা ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত। তিনি অভিযোগ করেন, ৫৪ বছরেও শ্রমিকদের জন্য বাজেটে ১ শতাংশ বরাদ্দও নিশ্চিত করা হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-আন্দোলনে বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দেয়া ১৪৯ জন শ্রমিকের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই বৈষম্য এখনো অব্যাহত রয়েছে।