গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে চায় তিউনিসিয়া

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ড জাপান লড়াইয়ের পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সুইডেন ও তিউনিসিয়া। আগামীকাল সকাল ৮টায় গুয়াদালুপের এস্ত্রাদিও বিবিভিএতে মাঠে নামবে দুই দল। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে মাত্র সাত ধাপের ব্যবধান থাকলেও দুই দলের যাত্রাপথ, লক্ষ্য এবং প্রত্যাশা একেবারেই আলাদা।

একদিকে ইউরোপের অভিজ্ঞ দল সুইডেন, যারা বিশ্বকাপে খেলছে ১৩তম আসর। অন্য দিকে আফ্রিকার প্রতিনিধি তিউনিসিয়া, যারা সপ্তমবার বিশ্বকাপে এলেও এখনো কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি। তাই ম্যাচটি শুধু টুর্নামেন্ট শুরুর লড়াই নয়- এটি দুই দলের জন্য ইতিহাস বদলের সুযোগও।

সুইডেনের এবারের বিশ্বকাপে ওঠার গল্প ইউরোপিয়ান ফুটবলে বিরল এক ঘটনা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের গ্রুপে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। কসোভো, সেøাভেনিয়া ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কাক্সিক্ষত ফল না পেলেও উয়েফা নেশনস লিগের প্লে-অফ পথ তাদের নতুন জীবন দেয়।

সেখানে প্লে-অফ সেমিফাইনালে ইউক্রেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন ভিক্টর গিওকারেস। পরে ফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে নাটকীয় গোলে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে সুইডেন। ফলে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে বাছাই গ্রুপে কোনো জয় ছাড়াই বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় তারা।

এই দলের দায়িত্বে আছেন সাবেক চেলসি কোচ গ্রাহাম পটার। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই সুইডিশ ফুটবলে নতুন কৌশল ও আক্রমণাত্মক ভাবনা আনার চেষ্টা করছেন তিনি।

সুইডেনের বিশ্বকাপ ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৫৮ সালে রানার্স-আপ হওয়া দলটি ১৯৯০ সালের পর নিজেদের শেষ চারটি বিশ্বকাপ অংশগ্রহণেই গ্রুপ পর্ব পেরিয়েছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচগুলোতেও তাদের রেকর্ড ভালো। শেষ ১২টি প্রথম ম্যাচে মাত্র দুইবার হার।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো কিছুটা উদ্বেগও তৈরি করেছে। নরওয়ের কাছে ৩-১ গোলে হার এবং গ্রিসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র রক্ষণভাগের দুর্বলতা সামনে নিয়ে এসেছে। গত বছরের জুন থেকে টানা ১১ ম্যাচে গোল হজম করেছে সুইডেন।

তবে আক্রমণভাগে আত্মবিশ্বাসের অভাব নেই। সামনে থাকবেন ইউরোপের দুই আলোচিত ফরোয়ার্ড ভিক্টও গিওকারেস ও আলেকজেহুার ইসাক। জাতীয় দলের হয়ে এই দুই তারকা ইতোমধ্যে ৩৭ গোল করেছেন।

দলের সম্ভাব্য রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেবেন ভিক্টও লিন্ডলফ। মাঝমাঠে দেখা যেতে পারে ইয়াসিন আয়ারিকে। উইংয়ে থাকবেন আলেকজেহুার বার্নহার্ডসন। যদিও বামদিকে গস্খাবিয়েল গার্ডমান্ডনসের খেলা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

অন্য দিকে তিউনিসিয়া এবারের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ছিল প্রায় নিখুঁত। নামিবিয়া, লাইবেরিয়া, মালাউই, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ও সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপের বিপক্ষে ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে জয় তুলে নেয় তারা। সবচেয়ে বড় বিষয় পুরো বাছাইপর্বে একটি গোলও হজম করেনি।

তবে মূল বিশ্বকাপ মঞ্চে তাদের ইতিহাস হতাশার। আগের ছয় আসরের সবগুলোতেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। ১৮ ম্যাচে মাত্র তিনটি জয় রয়েছে তাদের।

কোচ সাবরি লামুচির অধীনে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে শেষ ষোলোতে বিদায়, এরপর অস্ট্রিয়ার কাছে হার এবং বিশ্বকাপের আগে বেলজিয়ামের কাছে ৫-০ গোলের বড় পরাজয় দলটির আত্মবিশ্বাসে আঘাত দিয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, তিউনিসিয়া টানা তিন ম্যাচে গোল করতে পারেনি। শেষ চার ম্যাচে তাদের মোট গোল মাত্র একটি। তবুও দলটিতে কিছু আকর্ষণীয় নাম রয়েছে। সাবেক ম্যনইউর অ্যাকাডেমির মিডফিল্ডার হানিব্যাল মেজব্রি আবার একাদশে ফিরতে পারেন।