নিজস্ব প্রতিবেদক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন নিম্ন আদালত। ফলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পেলেও এই হত্যা মামলার কারণে আবুল বারাকাতের কারামুক্তি আটকে গেল। অন্য দিকে রাজধানীর পৃথক তিন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও সঙ্গীতশিল্পী মমতাজ বেগম। তবে তার বিরুদ্ধে আরো মামলা থাকায় তিনিও মুক্তি পাচ্ছেন না।
গতকাল সোমবার পৃথক আদালতে এই দুই মামলার শুনানি ও আদেশ প্রদান করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে ড. আবুল বারাকাতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আর মমতাজ বেগমের জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো: খায়রুল আলম এবং বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল-সহ অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ দেন।
গতকাল সোমবার আবুল বারাকাতের নিয়মিত জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হলে ব্যারিস্টার সারা হোসেন তার পক্ষে জামিন চান এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এর বিরোধিতা করেন।
জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় গত ১০ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে ড. আবুল বারাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গত ৭ জুন দুদকের ওই মামলায় আপিল বিভাগ থেকে তিনি জামিন পেলেও এই হত্যা মামলার কারণে তার মুক্তি আটকে যায়। ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার আদালতে জমা দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ড. আবুল বারাকাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যার ঘটনায় তার শ্যালক আব্দুর রব বাদি হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনকে আসামি করে নিউ মার্কেট থানায় এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন।
আশুলিয়া থানার একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা এবং মিরপুর মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন বিফল হয়ে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি আবেদন করেছিলেন মমতাজ বেগম। সোমবার হাইকোর্ট বেঞ্চ তার আবেদন মঞ্জুর করে রুল-সহ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। আদালতে মমতাজের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার, মোতাহার হোসেন সাজু এবং আইনজীবী মোসা: খায়রুন নেছা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেন ও মো: মাসুদুল আলম দোহা।
মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর, গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন থেকে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় আরো তিনটি হত্যা মামলা থাকায় এখনই তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন।



