মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী এবং স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার মেজ ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেল মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন এবং প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার বাদে আসর গুলশান আজাদ মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে দ্বিতীয় এবং বিকেলে মিরসরাইয়ের মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি মিরসরাইয়ের ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ছাত্রজীবনেই ছয় দফা আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া এই নেতা দীর্ঘ সময় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেয়ার দুঃসাহসী অভিযানে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পদক’ দেয়া হয়। তার মৃত্যুতে মিরসরাইয়ের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুর আমিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।



