মেয়াদ শেষের আগেই ১৯ ভিসিকে সরিয়ে দিয়েছে বিএনপি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদ থেকে ১৯ জনকে সরিয়ে দিয়েছে বিএনপি সরকার। এমন দাবি করে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ঠিক কী কারণে বা কেন তাদেরকে নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে তার কোনো কারণ উল্লেখ করেনি সংস্থাটি। তবে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতেই যে এই বদলি সেটা অনেকটা প্রতিষ্ঠিত সত্য বলেই মনে করছেন সবাই। টিআইবির অভিযোগ, এসব সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো আনুষ্ঠানিক কারণও প্রকাশ না করা হলেও প্রকৃত সত্য সবাই অবগত রয়েছেন।

গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে টিআইবি। এ সময় ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। সংস্থাটি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে সার্চ কমিটি থাকলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে ।

টিআইবি পর্যবেক্ষণে জানায়, ক্ষমতাসীন দলের গুরত্বপূর্ণ পদে থাকা একজনকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রোভিসি, ট্রেজারার, ডিন ও প্রভোস্ট পদে রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিবর্তন, সরকার গঠনের পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন, সংঘর্ষ ও সহিংসতা। ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ইত্যাদি ইস্যুতে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র দুইটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘঠনা ঘটেছে। সংস্থাটি আরো জানায়, শিক্ষাখাতে সরকারের উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসি নিয়োগে সার্চ কমিটির পুনর্গঠন, প্রতি বছর বিদ্যালয়ে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে বিদ্যালয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি, শিক্ষকদের প্রতিবন্ধী শিশুবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।