নয়া দিগন্ত ডেস্ক
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা-মা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে সিরিয়ার এক নাগরিক এবং নওগাঁয় এক কলেজশিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য দিকে বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের হামলায় এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-
আনোয়ারা উপজেলায় ছেলের ছুরিকাঘাতে নিহতরা হলেন, স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)। শনিবার উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা এলাকার এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রিমন দাশ গুপ্তকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক বিরোধের জেরে রিমন তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে বাবাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশ মারা যান। গুরুতর আহত স্বপন দাশ গুপ্তকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতিকালে তার মৃত্যু হয়। নিহতের স্বজন তিথি দাশ জানান, রিমন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং একাধিকবার পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান অভিযুক্তকে আটকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, লাশ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
সিরীয় নাগরিকের লাশ উদ্ধার
পটুয়াখালীর পৌর শহরের নবাবপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে মাজেন আল খতিব (৭৩) নামে এক সিরীয়র লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে তার এক স্বজন বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে দরজা ভেঙে তার লাশ উদ্ধার করে। বাড়ির মালিক কে এম শাহাদাত হোসেন জানান, প্রায় চার মাস আগে মাজেন আল খতিব বাসাটি ভাড়া নেন এবং একাই থাকতেন।
নিহতের ছেলে হাসান আল খতিব বলেন, তার বাবা সিরিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে তিনি কিছুই বলতে পারেননি। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ
নওগাঁ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে ইমন (২৫) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি নওগাঁ সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং মান্দা উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা।
শনিবার পরিবারের সদস্যরা তার সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে ছাত্রাবাসে যান। পরে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ছুরিকাঘাতে আইনজীবী নিহত
বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে নিজাম উদ্দিন শান্ত নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার গভীর রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা গতিরোধ করে তাকে ছুরিকাঘাত করে। আহত অবস্থায় তিনি পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও তার ওপর হামলা করা হয়। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়।
পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকবদার জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতাল মর্গের সামনে জড়ো হয়ে আইনজীবীরা হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান। স্বজনরা জানান, এক মাস আগে সড়ক দুর্ঘটনায় শান্তর বাবা মারা যান। এর আগে তিনি মা ও প্রথম স্ত্রীকেও হারিয়েছেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।



