মাঝারি গরুতে আগ্রহ বেশি

পশুহাটে দাম যাচাই করছেন ক্রেতারা

Printed Edition
কমলাপুর পশুরহাটের এই গরুটি দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ লাখ টাকা  : মোহাম্মদ শরীফ
কমলাপুর পশুরহাটের এই গরুটি দাম চাওয়া হচ্ছে ৫ লাখ টাকা : মোহাম্মদ শরীফ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে শুরু হয়েছে বেচাকেনা। তবে এখনো আশানুরূপ জমেনি। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে হাটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও সেভাবে বেচাকেনা হয়নি। মূলত ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকি থাকায় ক্রেতারা দরদাম যাচাই করছেন। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে মাঝারি আকারের গরুর দিকে বেশি আগ্রহ দেখা গেছে।

রাজধানীর কয়েকটি পশুহাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে ইতোমধ্যে অনেক গরু-ছাগল উঠেছে। তবে ক্রেতাদের আগমন সে তুলনায় কম। রাজধানীতে বাসায় গরু রাখার জায়গার সঙ্কটে ক্রেতারা মূলত এক-দু’ দিন আগে কোরবানির পশু কিনে থাকেন। এর আগে কয়েকদিন বিভিন্ন হাট ঘুরে দরদাম যাচাই করে থাকেন ক্রেতারা। সেভাবে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় হাটে ক্রেতা সমাগম বেশি হলেও বিক্রি সেভাবে জমেনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উত্তর শাহজাহানপুর অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, এ হাটে প্রতিবছরের মতো জামালপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মেহেরপুর ও সিরাজগঞ্জসহ

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে পশু আসেছে। হাট ইজারা নেয়া প্রতিষ্ঠানের ধারণা, এখন পর্যন্ত চার থেকে পাঁচ হাজার গরু এসে পৌঁছেছে। প্রতিবছর এ হাটে কম-বেশি দশ হাজারের মতো পশু বিক্রির জন্য আনা হয়। শাহজাহানপুর মূল মাঠসহ আশপাশের রেলওয়ে কলোনি এলাকার ফাঁকা জায়গার প্রায় পুরো এলাকা শামিয়ানা টাঙিয়ে সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে গরু। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ক্রমাগত এ হাঁটে গরু আমদানি হবে, বিক্রিও হবে সমান তালে। হাট ঘুরে দেখা গেছে, পুরো হাটে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশি। চার থেকে সাড়ে চার মণ গোশত হবে এমন গরুর দাম দেড় লাখ টাকার ওপর হাঁকছেন বিক্রেতারা। গত কয়েক বছরের মতো এবারও ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। তবে হাটের মূল আকর্ষণ হিসেবে নজর কাড়ছে বেশ কিছু বিশাল আকৃতির গরু। বিক্রেতারা বলেন, এখন হাটে যারা আসছেন তাদের অধিকাংশই বাজার দেখে-শুনে ফিরে যাচ্ছেন। ক্রেতারা মূলত হাটের পরিস্থিতি দেখছেন এবং দাম যাচাই করছেন।

জামালপুর থেকে ১২টি গরু নিয়ে এসেছেন বজলুর রহমান। তিনি জানান, গত বুধবার তিনি গরুগুলো এনেছেন। এর মধ্যে তিনি একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। বজলুর রহমান বলেন, জিনিসপত্রের যে দাম, মানুষের হাতে টাকা নেই। যে কারণে বড় গরুর বিক্রি হবে না- এটা আমার ধারণা। যে কারণে ছোট ও মাঝারি গরু এনেছি। এর মধ্যে কাল একটা এক লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এবার বেচাকেনা হবে ২৫ মে থেকে। কারণ, ঢাকার অধিকাংশ মানুষের গরু রাখার জায়গা নেই। তাই সবাই শেষ সময় গরু কিনতে চায়। এনামুল হক গরু এনেছেন কুষ্টিয়া থেকে। তিনি এ নিয়ে সাত বছর এ হাটে আসছেন। তিনি বলেন, এখনই মোটামুটি আমদানি ভালো হয়েছে। আরো গরু আসার সময় আছে। তবে সে তুলনায় ক্রেতা নেই।

মিনু মিয়া নামের এক বিক্রেতা বলেন, এখনো হাটের হাবভাব বুঝতে পারছি না। দাম চাইছি একটা। দেখি ক্রেতারা কী বলে। বিক্রেতাদের দাবি, গত বছরের চেয়ে তারা এবার প্রত্যন্ত এলাকার খামারিদের থেকে ১০-১৫ হাজার টাকা বেশি দামে গরু কিনেছেন। বাসাবো থেকে হাটে এসেছেন আব্দুল বারি। এ ক্রেতা বলেন, এসেছিলাম বাজার কেমন দেখতে, দামে হলে কিনে ফেলবো। কিন্তু বাজার অনেক চড়া মনে হচ্ছে। যে গরুর দাম এক লাখ ৭০ হাজার টাকা চায়, সেটা আমার কাছে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা ঠিক মনে হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিটি গরুর দাম ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেশি বলছেন বিক্রেতারা।

হাটে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন বলেন, তিনদিন হলো এ হাটে গরু হাসিল হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৫০টার কাছাকাছি পশু বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, মূল বেচাকেনা শুরু হবে রোববারের পর থেকে। তবে এবার পশুর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় বেশি।

পোস্তগোলা শ্মশানঘাট এলাকার পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে গরু বেঁধে রেখেছেন ব্যাপারীরা। কোথাও সামিয়ানা টানিয়ে, কোথাও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে রাখা হয়েছে পশু। কেউ গরুকে খড় খাওয়াচ্ছেন, কেউ পানি দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ক্রেতাদের সাথে দরদামে। হাটজুড়ে এখনো ঈদের আগের শেষ সময়ের সেই উপচেপড়া ভিড় নেই। তবে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে বেচাবিক্রির পরিবেশ। ক্রেতাদের অনেকেই পরিবার নিয়ে হাটে এসে গরু দেখছেন, দাম যাচাই করছেন কিংবা মোবাইলে ছবি তুলে রাখছেন।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ১১টি গরু নিয়ে এসেছেন মো: রানা ব্যাপারী। তিনি বলেন, এখনও আসল ক্রেতা নামেনি হাটে। যারা আসছেন তারা গরু দেখে যাচ্ছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন। কেউ কেউ ছবি তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারিনি। তিনি আরো বলেন, ঢাকার মানুষ সাধারণত আগে গরু কেনেন না। কারণ গরু রাখার জায়গা কম, পরিচর্যারও ঝামেলা আছে। তাই ঈদের দুই-এক দিন আগে কিনতে আসেন রাজধানীবাসী। তবে আশা করছি শেষ পর্যন্ত সব গরুই বিক্রি হবে। ফরিদপুর থেকে চারটি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী মিজানুর হাওলাদারও একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এখনো কাস্টমার কম। তবে আর দুই-এক দিনের মধ্যে বাজার জমে উঠবে। তখন বেচাবিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি। অন্য দিকে ক্রেতাদের কেউ কেউ বলছেন, এখন গরুর দাম তুলনামূলক বেশি। রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকা থেকে ছোট ছেলেকে নিয়ে গরু দেখতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, এখন গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দাম বেশি। তবে শেষ সময়ে হয়তো কিছুটা কমতে পারে। তাই এখন বাজার দেখে যাচ্ছি।

হাট ইজারাদারদের প্রত্যাশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আরো গরু আসবে। তখন পুরোপুরি জমে উঠবে হাট। ব্যাপারীরাও আশায় আছেন, শেষ সময়ে ভালো দামে পশু বিক্রি করতে পারবেন।