বিশ্বকাপ ঘিরে বাজির পরিমাণ ছাড়াতে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ম্যাককোয়ারি-এর এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে পাঁচ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি (প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা) বাজি ধরা হতে পারে। এর ফলে এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া-বাজির আসরে পরিণত হওয়ার পথে।

প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকদের মতে, টুর্নামেন্ট চলাকালে প্রতি ম্যাচে গড়ে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বাজি ধরা হতে পারে। তুলনামূলকভাবে ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে মোট বাজির পরিমাণ ছিল প্রায় তিন হাজার ৫০০ কোটি ডলার। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে সেই অঙ্ক প্রায় ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজির বাজার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই আসর। ফলে ম্যাচ সংখ্যাও বেড়ে ৬৪ থেকে ১০৪-এ পৌঁছেছে। ছয় সপ্তাহব্যাপী এই দীর্ঘ সূচি বাজির সুযোগও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এবারের আয়োজক তিন দেশ- কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র। অনুকূল সময়সূচির কারণে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার দর্শকরাও সহজে ম্যাচ দেখতে পারছেন, যা বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা ও বাজির আগ্রহ বাড়াতে সহায়তা করছে।

আরেকটি বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া ক্রীড়া-বেটিং শিল্প। ২০২২ সালে যেখানে দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বৈধভাবে ক্রীড়া-বাজিতে অংশ নিতে পারতেন, বর্তমানে সেই হার বেড়ে প্রায় ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক বৈধভাবে ম্যাচে বাজি ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে এই বিপুল অর্থপ্রবাহের আড়ালে উদ্বেগও কম নয়। জুয়াবিরোধী সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, অধিকাংশ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে বাজিতে অর্থ হারান। স্টপ প্রিডেইটরি গ্যাম্বলিংয়ের পরিচালক লেস বার্নালের দাবি, বিশ্বকাপ চলাকালে লাখ লাখ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ পুরুষরা, আর্থিক ক্ষতি ও ঋণের ফাঁদে পড়তে পারেন।

ব্রিটিশ জুয়া সংস্কারকর্মী ম্যাট জার্বও সতর্ক করেছেন যে, বিশ্বকাপে বাজি ধরা অনেক ব্যবহারকারীকে পরবর্তীতে আরো ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন ক্যাসিনো গেম ও অন্যান্য আসক্তিমূলক জুয়ার দিকে আকৃষ্ট করা হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাজ্যের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জুয়া কোম্পানিগুলোর মোট আয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ আসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করা মাত্র ১০ শতাংশ গ্রাহকের কাছ থেকে। অর্থাৎ, শিল্পটি মূলত অল্পসংখ্যক উচ্চ-ব্যয়কারী খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্বকাপ বরাবরই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন। তবে ২০২৬ সালের আসর শুধু মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নয়, বৈশ্বিক ক্রীড়া-বাণিজ্য ও জুয়ার বাজারের দিক থেকেও নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে প্রশ্ন, এই বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সামাজিক মূল্য কতটা?