টুখেলে বদলে যাওয়া ইংলিশরা

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এল’-এর অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনের বিশাল এটিঅ্যান্ড টিস্টেডিয়ামে আজ রাত ২টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি শুধু গ্রুপ পর্বের একটি সাধারণ লড়াই নয়, এটি দুই দেশের জন্য নতুন যাত্রার সূচনা, যেখানে অতীতের স্মৃতি, অসমাপ্ত স্বপ্ন এবং নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা একসাথে মিশে আছে।

ইংল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপ সবসময়ই আবেগের নাম। ১৯৬৬ সালে নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রায় ছয় দশক কেটে গেছে, কিন্তু ফুটবল এখনো পুরোপুরি ‘ঘরে ফেরেনি’। গত কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী দল হিসেবে ওঠে এলেও শেষ ধাপ পার হতে পারেনি। এবার নতুন কোচ টমাস টুখেলের অধীনে নতুন আশা নিয়ে মাঠে নামছে থ্রি লায়ন্স।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ইংল্যান্ড ছিল প্রায় নিখুঁত। ইউরোপ অঞ্চলের প্রথম দল হিসেবে তারা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে এবং বাছাইপর্বে আট ম্যাচের সবকটিতে জয় তুলে নেয়ার পাশাপাশি কোনো গোলও হজম করেনি। সেই দারুণ পরিসংখ্যান দেখে অনেকেই তাদের সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন।

তবে বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো কিছু প্রশ্নও তৈরি করেছে। মার্চে উরুগুয়ে ও জাপানের বিপক্ষে প্রত্যাশামতো ফল পায়নি ইংল্যান্ড। বিশেষ করে জাপানের বিপক্ষে পরাজয় ইংলিশ ফুটবলে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হ্যারি কেইনের গোল এবং শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে জয় কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।

টুখেলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার আক্রমণভাগ। অধিনায়ক হ্যারি কেইন এখনো গোলের প্রধান ভরসা। তার পেছনে খেলবেন জুড বেলিংহাম যাকে অনেকেই এই প্রজন্মের সবচেয়ে সম্পূর্ণ মিডফিল্ডারদের একজন মনে করেন। মাঝমাঠে ডেকলান রাইস ভারসাম্য আনবেন এবং আক্রমণ সাজাবেন।

তবে ম্যাচের আগে কিছু নির্বাচনী ধাঁধাও আছে। বুকায়ো সাকার ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে আক্রমণের ডান পাশে ননি মাদুয়েকেকে দেখা যেতে পারে। বাঁ দিকে সুযোগ পেতে পারেন অ্যান্থনি গর্ডন। রক্ষণে জন স্টোনস, এজরি কনসা ও অন্যদের নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভাবতে হতে পারে টুখেলকে।

অন্য দিকে ক্রোয়েশিয়াকে কখনোই শুধু ‘আন্ডারডগ’ বলে মূল্যায়ন করা যায় না। গত এক দশকে বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া দলটি দেখিয়েছে, বড় মঞ্চে তারা ভয় পায় না।

যদিও ইউরো ২০২৪ তাদের জন্য হতাশাজনক ছিল। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল এবং সেটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে খারাপ বড় টুর্নামেন্ট পারফরম্যান্স। সেই ব্যর্থতার পর বিশ্বকাপকে নতুন শুরুর মঞ্চ হিসেবে দেখছেন কোচ জ্লাতকো দালিচ।

ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি এখনো তাদের অভিজ্ঞতা। লুকা মদরিচ বয়স বাড়লেও দলের হৃদস্পন্দন হয়ে আছেন। তার সাথে মাতেও কোভাচিচ মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করবেন। উইংয়ে ইভান পেরিসিচ এখনও বিপজ্জনক, আর আক্রমণে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মতে সুযোগ পেতে পারেন পেতার মুসা, যিনি ক্লাব পর্যায়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। রক্ষণেও আছে ভারসাম্য। যশকো গভার্দিওলকে ঘিরে গড়ে উঠবে ডিফেন্স, যেখানে তরুণ লুকা ভুসকোভিচও নজরে থাকবেন।

এই ম্যাচকে আরো বিশেষ করে তুলেছে দুই দলের অতীত ইতিহাস। বিশ্বকাপের স্মৃতিতে এখনো তাজা ২০১৮ সালের সেই সেমিফাইনাল, যেখানে অতিরিক্ত সময়ে মারিও মানজুকিচের গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কাছে সেটি এখনো এক অপূর্ণ অধ্যায়ের নাম।

কৌশলগতভাবে ইংল্যান্ড সম্ভবত বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে চাইবে এবং বেলিংহাম ও রাইসের মাধ্যমে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করবে। অন্য দিকে ক্রোয়েশিয়া ধৈর্য ধরে খেলে সুযোগের অপেক্ষা করবে এবং মাঝমাঠের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ছন্দ ভাঙার চেষ্টা করবে।