নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (অন্তত স্নাতক) নিশ্চিতের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
একই সাথে ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৬ ধারায় ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যর্থতাকে কেন সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদ এবং গ্রাম আদালত আইনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ রুল দেন।
সংবিধানের ৭(এ), ১১, ২৭, ২৮, ২৯, ৫৯ ও ৬০ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী মো: তানভীর আহমেদ খান ও কাজী ফেরদৌসুল হাসান ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের এই ঘাটতি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন। গত কার্যদিবসে কার্যতালিকায় ২৪০ নম্বর ক্রমিকে থাকা রিটটির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কাজী ফেরদৌসুল হাসান, তার সাথে ছিলেন আইনজীবী মো: রুহুল আমিন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।
রিট আবেদনকারী আইনজীবী কাজী ফেরদৌসুল হাসান জানান, ২০০৯ সালের অক্টোবরে প্রণীত স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনের ২৬ ধারায় সদস্যদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার কথা বলা থাকলেও প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত রাখা হয়নি। ফলে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই যে কেউ ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে পারছেন, যা অত্যন্ত স্বেচ্ছাচারী।
রিটে মূল যুক্তি উপস্থাপন করে বলা হয়, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন আইনের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারকদের ন্যূনতম আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২ ধারা অনুযায়ী একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপ করতে পারেন।
অন্য দিকে, ২০০৬ সালের গ্রাম আদালত আইনের অধীনে একজন ইউপি চেয়ারম্যানের অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষমতাও একই অর্থাৎ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সমপর্যায়ের বিচারিক ক্ষমতা ও আইনি দায়িত্ব ভোগ করা সত্ত্বেও ইউপি চেয়ারম্যানদের জন্য আইনে কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা বিচারব্যবস্থা ও প্রজ্ঞার পরিপন্থী। যোগ্যতার এই ঘাটতি একজন চেয়ারম্যানকে তার অর্পিত আইনি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য করে তোলে।



