আরো ৪ বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ

পরিচালনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নজরদারি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হবে। অনেক ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের কারণে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। পর্যবেক উপস্থিত থাকলে এসব বিষয়ে সতর্কতা বাড়বে। তারা বলেন, পর্যবেকরা সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিলেও তাদের উপস্থিতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন জোরদার ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আরো চারটি বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ন্যাশনাল, প্রিমিয়ার, আইএফআইসি ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে এসব পর্যবেক নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকগুলোর পরিচালনা কার্যক্রম, আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেণের ল্েয এই পদপে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংকে পর্যবেক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১২ বিভাগের পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরী। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে দায়িত্ব পেয়েছেন ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। এ ছাড়া প্রিমিয়ার ব্যাংকে পর্যবেক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক এএনএম মঈনুল কবিরকে। অন্য দিকে আইএফআইসি ব্যাংকে পর্যবেকের দায়িত্ব পালন করবেন ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় অংশ নেবেন। সভায় উপস্থিত থেকে তারা ব্যাংকের নীতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিবিড়ভাবে পর্যবেণ করবেন। তবে এসব পর্যবেক ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সরাসরি হস্তপে করবেন না। বরং তারা সভায় আলোচ্য বিষয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে নিয়মিত অবহিত করবেন। ব্যাংকিং খাতে সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসন জোরদারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কিছু পদপে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান, ঋণ বিতরণ, খেলাপি ঋণের ঝুঁকি এবং করপোরেট গভর্ন্যান্স পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে সহায়ক হবে। অনেক েেত্র পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের কারণে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। পর্যবেক উপস্থিত থাকলে এসব বিষয়ে সতর্কতা বাড়বে। তারা বলেন, পর্যবেকরা সরাসরি সিদ্ধান্ত না নিলেও তাদের উপস্থিতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার েেত্র ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরো ব্যাংকে পর্যবেক নিয়োগ দেয়া হতে পারে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থান, পরিচালন কাঠামো এবং ঝুঁকি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ, দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং ব্যবস্থাপনা সঙ্কটের মতো বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যবেক ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো শক্তিশালী করার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই প্রোপটে নতুন করে চারটি ব্যাংকে পর্যবেক নিয়োগকে ব্যাংকিং খাতে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।