স্কুল টাইমে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা

বেতন তোলার অজুহাতে ক্লাস ফাঁকি দেন প্রাথমিকের শিক্ষক

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেতন তোলার প্রয়োজনেও স্কুল টাইমের মধ্যে বাইরে যেতে পারবেন না প্রাথমিকের শিক্ষকরা। গতকাল এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকার বাইরের একটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। সম্প্রতি লক্ষ করা গেছে যে অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বেতন তোলা কিংবা অন্য কোনো অজুহাতে স্কুলের বাইরে গিয়ে সময় কাটান। তারা নানা অজুহাতে ক্লাস ফাঁকি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এমন নির্দেশনা জারি করেছে।

সূত্র জানায়, এখন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্কুল চলাকালে ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যেতে পারবেন না। এমনকি মাসিক বেতন উত্তোলনের জন্যও তাদের বিদ্যালয় ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর পরিবর্তে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে এটিএম, ডেবিট কার্ড অথবা অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বিদ্যালয় ছুটির পর বেতন তুলতে বলা হয়েছে। দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জারি করা এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেয়া হয়। জেলার সব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারকে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিক বলেন, আমি কয়েকটি স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে দেখতে পাই, একসাথে পাঁচজন শিক্ষকও বেতন তুলতে গেছেন। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক শিক্ষক আছেন, যারা বেতন তোলার অজুহাতে বাইরে গিয়ে আড্ডা দেন। মূলত শিক্ষকরা যেন সতর্ক থাকেন, সেজন্যই এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে যেসব শিক্ষকের এখনো এটিএম বা ডেবিট কার্ড নেই, তাদের অতিসত্বর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড সংগ্রহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদারকি ও ব্যবস্থা নেবেন।

চিঠিতে আরো বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যায়, কিছু শিক্ষক বিদ্যালয়ের কার্যদিবস ও পাঠদান চলাকালে মাসিক বেতন উত্তোলন ও ব্যক্তিগত কাজে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই বিদ্যালয় থেকে একাধিক শিক্ষক একযোগে বেতন উত্তোলনের জন্য বাইরে যান। এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বিঘিœত হচ্ছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষা গ্রহণের অধিকার ক্ষুণœœ করছে।

শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ স্বার্থ সংরক্ষণ, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন পাঠদান নিশ্চিত করতেই এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে।