গণরায় উপেক্ষা করা দলকে গণতান্ত্রিক বলা যায় না : অধ্যাপক মুজিব

প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দিকে নেয়া হচ্ছে : গোলাম পরওয়ার

Printed Edition
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের গণমিছিল (বাঁয়ে);  জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের বিক্ষোভ মিছিল : নয়া দিগন্ত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের গণমিছিল (বাঁয়ে); জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের বিক্ষোভ মিছিল : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণের রায় উপেক্ষা করার পর বিএনপিকে গণতান্ত্রিক দল বলা যায় না। জনগণের মতামতকে সম্মান করাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। কিন্তু বিএনপি গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করে সেই নীতি থেকে সরে এসেছে। একই সাথে তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সংসদের লড়াই রাজপথে চলে আসবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে কিছু ব্যক্তি বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার বাস্তবায়নই ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানোর একমাত্র পথ।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আয়োজিত গণমিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সুবিধাভোগী হলেও বিএনপি এখন সেই অভ্যুত্থানের চেতনা থেকে সরে এসেছে। নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমানে তারা সে অবস্থান থেকে সরে গেছে। তার দাবি, জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল।

তিনি বলেন, কেবল আইনের আংশিক সংশোধন নয়, গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। এ সংস্কার বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রক্ষমতা কোনো একক সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকবে না।

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আইন সংশোধনের মাধ্যমে ‘রিফর্ম আওয়ামী লীগ’ নামে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা জুলাইয়ের চেতনাকে ভুলে গিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দলীয় লোকজন নিয়োগ দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য কথা বলার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। পাঁচ মাসেও কাক্সিক্ষত কোনো পরিবর্তন হয়নি।

জামায়াতকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে করা মন্তব্যের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত কখনো গুপ্ত সংগঠন ছিল না। বিভিন্ন আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের সম্পৃক্ততা নিয়ে যারা মন্তব্য করেন, সে বিষয়ে জনগণই মূল্যায়ন করবে।

সমাবেশ শেষে মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে তেজগাঁও তিব্বত মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও ডা: ফখরুদ্দিন মানিক সমাবেশ পরিচালনা করেন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান, মুফতি আলী হাসান উসামা ও ড. ফয়জুল হক।

মহানগর দক্ষিণের সমাবেশে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক দল সেই দল, যারা জনগণের রায় মেনে চলে। কিন্তু গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের মতামত উপেক্ষা করে বিএনপি একটি অগণতান্ত্রিক দলে পরিণত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির রাজনীতি জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে দলীয়করণকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। জামায়াতে ইসলামী সংসদে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের দাবি তুলে ধরছে। তবে সরকার যদি গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সেই আন্দোলন রাজপথে গড়ে উঠবে। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করা হলে জনগণ সরকারকে প্রত্যাখ্যান করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, জুলাইয়ের চেতনা মুছে ফেলার যেকোনো চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের কারণেই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এসেছে। তাই সরকারের উচিত জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।

সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে তৎকালীন সরকার জুলাই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়েছিল। তবে রাজনৈতিক দূরদর্শিতার মাধ্যমে জামায়াত সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিজয় নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে বলে তিনি দাবি করেন।

মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ শামছুর রহমান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি, হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি গণমিছিল বের হয়ে পল্টন, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও হাইকোর্ট চত্বর হয়ে মৎস্য ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।