নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী ব্যাংক সুদবিহীন অর্থনীতি পরিচালনার একটি সফল মডেল তৈরি করেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ও এস আলম গ্রুপ এই ব্যাংকটিকে লুটপাট করে শেষ করে দিয়েছে। এখন নতুন করে এই ব্যাংকের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে আবার ষড়যন্ত্র করা হলে সংশ্লিষ্টদের ফ্যাসিবাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে ‘নাগরিক মঞ্চ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র বন্ধ এবং আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের ন্যায্য দাবি পূরণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, অনেক গবেষণার মাধ্যমে দেশে সুদবিহীন ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যার উপকার সব দলের ব্যবসায়ীরাই পেয়েছেন। অথচ সরকার আবার একজন দুর্নীতিবাজের হাতে ব্যাংকটি তুলে দিতে চায়। সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কেন একজন দুর্নীতিবাজের হাতে ইসলামী ব্যাংক তুলে দেয়া হবে? এ ব্যাংক সব ধরনের গ্রাহকের। এখানে একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিন। সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে গ্রাহকরা একবার মুখ ফিরিয়ে নিলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার আন্দোলনকারীদের গুরুত্ব না দিলে পরিণতি খারাপ হবে। আমরা আশা করি, এর আগেই সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
নাগরিক মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ‘আয়নাঘর’ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল (অব:) হাসিনুর রহমান। তিনি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও নাগরিক অধিকারের নানা দিক তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে আহসান উল্লাহ শামীম বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলেও এই ব্যাংকটি নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আমাদের রাজপথে আন্দোলন করতে হয়েছে। গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আন্দোলনের স্পষ্ট ভাষা হচ্ছে- ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদে কোনো দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী ও ঋণখেলাপিদের বরদাস্ত করা হবে না। ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের দুর্ভোগ লাঘবে এবং ব্যাংকটিকে রক্ষায় আমরা প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিবিদ ড. ফয়জুল হক, কর্নেল (অব:) ফরিদুল আকবর, লে. কর্নেল (অব:) আবু ইউসুফ জোবায়ের উল্লাহ পিএসসি, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, ইসলামী শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশের মহাসচিব প্রফেসর ড. মো: আবু হানিফ খান, বাংলাদেশ ইসলামী দলের চেয়ারম্যান মো: হুমায়ুন কবির, ইসলামী সমাজতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান, ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহর সভাপতি ডা: ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, জাস্টিস পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম মজুমদার, রিলায়েন্স ইসলামী অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: মাইনুদ্দিন, সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব:) হারুন-অর-রশিদ, কমান্ডার (অব:) মো: সিদ্দিকুর রহমান, মুসলিম উম্মাহর চেয়ারম্যান মুফতি আব্দুস সালাম, মঞ্চ ২৪ এর পরিচালক মো: আব্দুল মান্নান মিলন, ন্যাশনাল লেবার পার্টির মুখপাত্র শরিফুল ইসলাম, উর্দুভাষী মুভমেন্টের সভাপতি আফজাল ওয়াশির, প্রাইভেট মাদরাসা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক এবং ছাত্রনেতা মো: আরমান।



