রাজাপুরে ৩৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ৩টি পদ ও ৫টি অফিস সহকারী পদ শূন্য প্রায় ৭ বছর

Printed Edition

এনামুল হক রাজাপুর (ঝালকাঠি)

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাখাতে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষক পদের ভয়াবহ শূন্যতার কারণে উপজেলার দাফতরিক কার্যক্রম ও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক তদারকি ভেঙে পড়েছে। এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ন্ত্রণের মূল চালিকাশক্তি পাঁচটি সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও) পদের মধ্যে তিনটি পদই প্রায় সাত বছর ধরে শূন্য। দাফতরিক কাজের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পাঁচটি করণিক (অফিস সহকারী) পদের সব কয়টিই ফাঁকা পড়ে আছে প্রায় ছয় বছর ধরে। এমনকি একমাত্র অফিস সহায়কের (পিওন) পদটিও গত আত বছর ধরে শূন্য রয়েছে। অফিসের এই নজিরবিহীন জনবল সঙ্কটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপজেলার ১২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৩৪টিতে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকের ঘাটতিও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে ৭৫টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ফলে অনেক বিদ্যালয়ে মাত্র এক-দুইজন শিক্ষক দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষা সচেতন মহলের মতে, একটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার এই চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একদিকে শিক্ষকের অভাবে শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা হচ্ছে না, অন্যদিকে প্রশাসনিক তদারকির অভাবে শিক্ষকরাও জবাবদিহিতার বাইরে চলে যাচ্ছেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষার মান ধরে রাখতে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও শিক্ষা কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: আকতার হোসেন বলেন, অফিসের সব করণিক ও পিওনের পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় দাফকরিক কাজের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। নিজের অফিস সামাল দেয়ার পর প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোর খোঁজ নেয়ার আর সুযোগ থাকছে না। রাজাপুরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো নয়। পর্যাপ্ত এটিও না থাকায় আমি নিজেও অফিস ছেড়ে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করতে পারছি না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখিতভাবে জনবল পূরণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফল মেলেনি।