লন্ডনের ‘চীন-প্রীতি’ নিয়ে ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে খুব একটা আমল দিচ্ছে না ডাউনিং স্ট্রিট

Printed Edition

রয়টার্স

যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টাকে ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনের সাথে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যখন বেইজিংয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন থেকে এই কড়া বার্তা দিলেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের এই সতর্কতা সত্ত্বেও বেইজিংয়ের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে লন্ডন।

গত শুক্রবার কেনেডি সেন্টারে ‘মেলানিয়া’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারের আগে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ও বাণিজ্যিক চুক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “চীনের সাথে ব্যবসায়িক লেনদেনে জড়ানো তাদের (যুক্তরাজ্য) জন্য খুবই বিপজ্জনক।” যদিও তিনি এই বিপদের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিকের কণ্ঠেও। তিনি ব্রিটিশ প্রচেষ্টার সফলতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় রফতানিকারক দেশ, কিন্তু তাদের বাজারে অন্য দেশের পণ্য রফতানি করা অত্যন্ত কঠিন। ব্রিটিশরা যদি চীনে রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করে, তবে আমি তাদের জন্য কেবল শুভকামনাই জানাতে পারি, কারণ এটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।”

এ ছাড়া রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি এক বিবৃতিতে বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেছে, “চীন সস্তা পণ্য এবং সস্তা বন্ধুত্ব ছাড়া আর কিছুই বিক্রি করে না।” ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে খুব একটা আমল দিচ্ছে না ডাউনিং স্ট্রিট। ব্রিটিশ বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী ক্রিস ব্রায়ান্ট বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “যুক্তরাজ্য যা করছে তাকে বিপজ্জনক বলাটা ট্রাম্পের ভুল। অবশ্যই আমরা চোখ কান খোলা রেখেই চীনের সাথে সম্পর্কে জড়াচ্ছি।”

অন্য দিকে, বেইজিংয়ে তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে কিয়ার স্টারমার বাজার সুবিধা বৃদ্ধি, শুল্ক হ্রাস এবং বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেছেন। বেইজিংয়ে ‘ইউকে-চিনা বিজনেস ফোরাম’-এর এক সভায় স্টারমার জানান, শি জিনপিংয়ের সাথে তার আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে ‘পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা’ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ভিসামুক্ত ভ্রমণ এবং স্কচ হুইস্কির ওপর শুল্ক কমানোর মতো বিষয়গুলোকে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সফরের অংশ হিসেবে স্টারমার চীনা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘চেরি’-এর প্রধান নির্বাহীর সাথেও দেখা করেন। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা করছে।

বিমানে সফররত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে বলেন যে, চীন বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো একজনকে বেছে নেয়ার প্রয়োজন নেই লন্ডনের। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠগুলোর একটি। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে আমাদের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।” তিনি আরো মনে করিয়ে দেন যে, গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের যুক্তরাজ্য সফরের সময় দেশটিতে ১৫০ বিলিয়ন পাউন্ডের মার্কিন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।