নয়া দিগন্ত ডেস্ক
কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও চট্টগ্রামে তিন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তিন ধর্ষককেই এলাকাবাসী গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। অন্য দিকে বরিশাল ও না’গঞ্জে খুন হয়েছেন দুই যুবক।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষণকারীকে গণপিটুনি দিয়েছে এলাকাবাসী। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চর মিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আশাদুল (৩৮) ওই এলাকার ফজলু সর্দারের ছেলে। বর্তমানে অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী শিশু উভয়ই কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে খাবারের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আশাদুল শিশুটিকে স্থানীয় একটি স্কুলের ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আশাদুলকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: মো: ইকবাল হোসেন বলেন, শিশুটিকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অভিযুক্ত ধর্ষণকারীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন।
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আত্তাব হোসেন (৫০) নামে এক চিকিৎসক আটক হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাকে বিক্ষুদ্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধারের পর আটক করে। অভিযুক্ত আত্তাব হোসেন উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা বলছেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তৃতীয় শ্রেণীর ওই শিক্ষার্থী তার দাদীর জন্য ওষুধ আনতে ডাক্তারের দোকানে যায়। এ সময় কেউ না থাকার সুযোগে ডাক্তার মেয়েটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা তাকে আটকে রাখে। এ সময় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার সময় কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। একই সাথে ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে ঘরে ঢুকে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রুবেল (৪৫) নামের এক অটোটেম্পো চালককে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দেয়ার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে উত্তেজিত জনতা। রোববার সকাল ১০টার দিকে ছোটপুল কাঁচাবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রুবেল হালিশহর অটোটেম্পো রুটে গাড়ি চালান। ভুক্তভোগী শিশুটির বাবাও পেশায় একজন গাড়িচালক। একই পেশায় থাকার কারণে এবং পূর্বপরিচয়ের সূত্রে শিশুটির বাসায় রুবেলের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। ঘটনার সময় শিশুটির মা তার কর্মস্থলে ছিলেন।
শিশুটির বাবা জানান, সকালে বৃষ্টির কারণে তিনি ও তার মেয়ে বাসায় ঘুমাচ্ছিলেন। এমন সময় রুবেল এসে তাকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার জন্য ডাকেন। কিন্তু বৃষ্টি থাকায় তিনি বের হবেন না বলে জানালে রুবেল চলে যান এবং তিনি আবারো ঘুমিয়ে পড়েন। কিছু সময় পর পাশে থাকা মেয়ের চিৎকারে তার ঘুম ভাঙে। পরে কান্নারত শিশুটির কাছ থেকে ঘটনা জানতে পেরে তিনি সাথে সাথে রুবেলকে খুঁজতে বের হন। ততক্ষণে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি টের পেয়ে রুবেলকে ধরে ফেলেন।
ঘটনার জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত রুবেলকে গণপিটুনি দিয়ে এলাকার একটি বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হালিশহর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, তিন দিন ধরে নিখোঁজ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম খাঞ্জাপুর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ডের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম রেজাউল হাওলাদার (১৯)। সে পেশায় একজন নির্মাণ শ্রমিক ও পশ্চিম খাঞ্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত রতন হাওলাদারের ছেলে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ, পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন রেজাউল হাওলাদার নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। রোববার স্থানীয়রা পশ্চিম খাঞ্জাপুর এলাকার একটি ডোবায় তার লাশ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দুপুর ১টায় লাশ উদ্ধার করে সুরাতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করেছে। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কী কারণে যুবকের মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তদন্ত চলছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত তরুণ মো: জোবায়ের (১৮) চার দিন পর মারা গেছে। রোববার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এদিকে অপরাধীদের ধরতে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার মো: জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বর্তমানে বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগর ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। জোবায়ের বাধা দিলে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং তার সাথে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েরকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা জানান, ধর্মপাশা উপজেলাধীন পাইকুরাটি ইউনিয়নের সুনই গ্রামের কারির বাজার চায়ের দোকানদার নাসিম (৩৮) সকাল ৬টায় তার নিজ চায়ের দোকান কারির বাজার আসার সময় একই গ্রামের প্রভাবশালী অলি, ডালি, আনু সুফল, মোশারফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন গ্রামবাসী এসে তার ওপর হঠাৎ হামলা করে। এ সময় তার চিৎকারে নাসিমের বড় ভাই আল আমীনসহ গ্রামবাসী এসে নাসিমকে উদ্ধার করে ধর্মপাশা উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার পর নাসিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সুনামগঞ্জ জেলা মডেল হাসপাতাল মর্গে নেয়া হয়েছে। ধর্মপাশা থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) শহীদুল্লাহ বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর মামলা দায়ের করা হবে।



