উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে নীলফামারী নগরী

Printed Edition

আবদুল গফুর নীলফামারী

দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক ভোগান্তির চিত্র পেছনে ফেলে দৃশ্যমান উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে নীলফামারী পৌরসভা। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র এক বছর দুই মাসের মধ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পৌর এলাকার অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবায় পরিবর্তনের ছাপ ফেলেছেন প্রশাসক মো: সাইদুল ইসলাম।

পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এখন উন্নয়নের কার্যক্রম দৃশ্যমান। শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠকে আধুনিকভাবে সাজানো হয়েছে। মাঠের চার পাশে বসার ব্যবস্থা, সৌন্দর্যবর্ধনে গাছপালা রোপণ এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ব্যায়ামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে সেখানে শতাধিক মানুষ হাঁটাচলা ও শরীরচর্চা করছেন। মাঠে মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ করায় পরিবেশও হয়েছে আরো স্বস্তিদায়ক। পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক শৌচাগার।

শহরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে অলিগলিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া মশার উপদ্রব কমাতে নিয়মিত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

শিশুদের বিনোদনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে পৌর শিশু পার্ক, যা স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময়েও জেলায় গড়ে ওঠেনি। একই সাথে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে টেরাকোটায় সাজানো দৃষ্টিনন্দন উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আধুনিক কসাইখানাও নির্মাণ করা হয়েছে।

পৌরসভার অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলাবিশিষ্ট আধুনিক শপিংমল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পৌরভবনের পাশে নির্মিতব্য এই শপিংমলে থাকবে লিফট, শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, অল্প সময়েই শহরের দৃশ্যমান পরিবর্তন তাদের আশাবাদী করে তুলছে। আনন্দ বাবুর পুল এলাকার বাসিন্দা সিজানুর রহমান বলেন, ‘মাত্র এক বছরেই অনেক উন্নয়ন। এখন শহরে পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট।’ আইনুল হক বলেন, ‘আগে পৌরসভার নানা সমস্যা ছিল। এখন ধীরে ধীরে সেগুলোর সমাধান হচ্ছে। শহরটা আগের চেয়ে অনেক বেশি বাসযোগ্য হয়ে উঠছে।’ রাহাত হোসেনের ভাষ্য, ‘বড় মাঠের উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে। এখন পরিবার নিয়ে সেখানে সময় কাটানো যায়, যা আগে ভাবাই যেত না।’

পৌর প্রশাসক মো: সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নগর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। একটি মানসম্মত স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের বাইরে যেয়ে পড়ালেখা করতে না হয়। পাশাপাশি শহর সম্প্রসারণ ও চৌরঙ্গী মোড় থেকে গাছবাড়ি পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘নীলফামারীর উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতেও বড় উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’