গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর মহানগরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে গতকাল বৃহস্পতিবার অন্তত তিনটি পোশাক কারখানায় বেতনভাতা, ওভার টাইমসহ নানা দাবিতে পৃথকভাবে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিকরা। এ সময় একটি কারখানায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এত কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিতালী গ্রুপের কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড পোশাক কারখানার সামনে আন্দোলন করেছে শ্রমিকেরা। তারা ঈদুল আজহার ১১ দিন ছুটি, বকেয়া ওভারটাইমের টাকা পরিশোধ, মে মাসের পূর্ণ বেতন এবং কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণের দাবি করে। এক পর্যায়ে তাদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এত কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে।
এ দিকে, সুইং সেকশনের কিছু শ্রমিক পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে বেআইনি ধর্মঘট, অন্যান্য শ্রমিকদের কাজে বাধা, এসব বিষয় উল্লেখ করে বুধবার কারখানা ছুটির পর কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে নোটিশ টানিয়ে দেয়।
আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ দিনের ছুটি এবং কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। বুধবার শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানায় কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে। ওইদিন ডিউটি শেষে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি দিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় গিয়ে বন্ধের নোটিশ টানানো এবং পুলিশ সদস্যদেরকে দেখতে পায়। এতে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় শ্রমিকেরা কারখানায় জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে কারখানায় ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকজন শ্রমিককে লাঠিপেটা করেন। এতে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
শ্রমিকেরা আরো বলেন, কারখানা কর্র্তৃপক্ষ তাদেরকে মে মাসের পুরো বেতন এবং দুর্নীতিবাজ কয়েকজন কর্মকর্তার অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। কর্তৃপক্ষ তাদের ছুটির দাবি মেনে নিয়ে শুক্রবার (২২ মে) পূর্ণ দিবস কাজ করতে বললে তারা রাজি হননি।
অপর দিকে মিতালী গ্রুপের কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেডের কারখানা বন্ধের নোটিশে কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তারা ঈদ উপলক্ষে ২০ দিনের অগ্রিম বেতন এবং ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করে পূর্বেই নোটিশ প্রদান করেছে; কিন্তু ১৯ এবং ২০ মে সুইং সেকশনের কিছু শ্রমিক পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে বেআইনি ধর্মঘট, অন্যান্য শ্রমিকদের কাজে বাধা প্রদান, ঊর্ধŸতন কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান এবং উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘœ সৃষ্টি করায় কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। কারখানার নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও উৎপাদন কার্যক্রম রক্ষার্থে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩ (১) অনুযায়ী বৃহস্পতিবার হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসাইন বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ রাত ১২টার দিকে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেয়। সকালে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে এসে বন্ধের নোটিশ দেখে জোরপূর্বক কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা জানান, কারখানায় মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা রোববার বিকেলে কর্মবিরতি শুরু করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ বুধবার বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। বুধবার বেতন না দিলে শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার সকালে কাজে যোগ দেয়ার পর মেশিনের সুইচ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন শুরু করে।
এ সব বিষয়ে কেয়া নিট-এর কেউ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি।
অপর দিকে, কোনাবাড়ি বিসিক শিল্প এলাকার তমিজউদদীন টেক্সটাইল মিলসের শ্রমিকরা অর্জিত (বাৎসরিক) ছুটির টাকা, ইনক্রিমেন্ট এবং মে মাসের অর্ধেক বেতন ঈদের আগে পরিশোধের দাবিতে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন বলেন, কেয়া নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার শ্রমিকেরা বকেয়া বেতনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।



