নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাতিল করে ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা, সাধারণ শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমি শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষাসহ ১৮ দফা দাবি জানিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা) এসব দাবি উত্থাপন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রের জন্য হয়েছে তার কোনো ঐতিহাসিক দলিল প্রমাণ নেই। এটি ভারতের চাপিয়ে দেয়ার কারণে সংবিধানে যোগ হয়েছে। ৯২ ভাগ মুসলিমের দেশে ধর্মনিরপেক্ষতা যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রে ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া প্রয়োজন।
অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষাকে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার অভাবে নতুন প্রজন্ম দ্বীনি জ্ঞান থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। একই সাথে তারা কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বাধীনতা ও বিশেষায়িত চরিত্র অক্ষুণœ রাখার আহ্বান জানান।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরো দাবি করা হয়, কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে মূলধারার শিক্ষার সাথে একীভূত করার যেকোনো উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। তারা অভিযোগ করেন, কওমি শিক্ষাকে ‘সংস্কার’ করার নামে এর স্বকীয়তা নষ্টের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দেশের শীর্ষ আলেম ও কওমি বোর্ডগুলোর মতামত নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, মাওলানা আলী আজম বি-বাড়িয়া, মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মাওলানা মেরাজুল হক মাযহারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফ, মুফতি রেজুওয়ান রফিকী, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী প্রমুখ।



