মৃত্যু নিয়ে উল্লাসকারীদের বিচার দাবি

দেশে কারিনা কায়সারের লাশ, আজ দাফন

Printed Edition

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সারের লাশ দেশে এসে পৌঁছেছে। গতকাল বিকেলে তার লাশ বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কারিনার বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদসহ জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা ও স্বজনেরা বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে লাশ গ্রহণ করেন।

বিমানবন্দর থেকে লাশ প্রথমে বনানীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে সন্ধ্যা ৭টায় বনানী ডিওএইচএস জামে মসজিদে, রাত ৮টায় বনানী দরবার শরিফ মসজিদে এবং রাত ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কারিনার তিন দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার সকাল ৭টায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার আব্দুল্লাপুরে শেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। ৩১ বছর বয়সী কারিনা দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন। ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেখানে লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও শারীরিক দুর্বলতা এবং ফুসফুসে সংক্রমণ ও তরল জমার কারণে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করতে পারেননি। অবশেষে গত শুক্রবার রাতে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বিনোদন জগতের চেনা গণ্ডি পেরিয়ে কারিনা কায়সার ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন। সমাজমাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে জনমত তৈরির পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সময়েও মাঠের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন টকশো ও অনুষ্ঠানে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের দায়িত্ব নিয়ে কথা বলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’-এর চিত্রনাট্য ও অভিনয়ের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। তবে কারিনার মৃত্যুর পর সমাজমাধ্যমের একটি অংশে বিপরীত রাজনৈতিক আদর্শের কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে তার রোগ ও অকাল প্রস্থান নিয়ে বিদ্রƒপ এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। এই ধরনের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ নাগরিক, জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা এবং সংস্কৃতি কর্মীরা এই বিকৃত মানসিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

একই সাথে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মৃত ব্যক্তির অবমাননার দায়ে সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

বিশিষ্টজনেরা বলছেন, ধর্মীয় ও মানবিক কোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই কোনো মানুষের মৃত্যু বা রোগ নিয়ে উপহাস করা কাম্য নয়। মেয়ের মৃত্যু নিয়ে এমন আচরণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন কারিনার বাবা কায়সার হামিদ। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, যারা সমাজমাধ্যমে কটূক্তি ও আনন্দ প্রকাশ করছেন, তিনি তাদের সুবুদ্ধি ও হেদায়েত কামনা করেন এবং পুরো বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এই নোংরা মানসিকতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, দেখা হবে অন্য ভুবনে, যেখানে মানুষ কারো মরণব্যাধি নিয়ে উল্লাস করে না। এ ছাড়া অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ ও সাদিয়া আয়মান কারিনাকে একজন ইতিবাচক ও ভালো মনের মানুষ হিসেবে স্মরণ করে তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।