‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভারতীয় মুসলিম সংগঠন

Printed Edition

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

‘বন্দে মাতরম’ গীতটিকে আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা এবং এর অবমাননাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার কেন্দ্রীয় পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড। বোর্ডের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংবিধানের মূল চেতনা, ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকারের সম্পূর্ণ বিপরীত।

গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে বোর্ডের মুখপাত্র ড. সৈয়দ কাসিম রসূল ইলিয়াস জানান, সংসদীয় বিলের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। কোনো বিশেষ ধর্মীয় ভাবাবেগ আইনের মাধ্যমে সর্বসাধারণের ওপর চাপিয়ে দেয়া গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী। তিনি মনে করিয়ে দেন, ভারতের গণপরিষদ দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই গানের কেবল প্রথম দু’টি স্তবককে জাতীয় ক্ষেত্রে গ্রহণ করেছিল, কারণ পরবর্তী অংশে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সাথে অমিল রয়েছে এমন উপাদান বিদ্যমান। ড. ইলিয়াসের মতে, উক্ত গীতের কিছু চরণে মাতৃভূমিকে দেবীরূপ দিয়ে আরাধনার বিষয়টি ইসলামের ‘তাওহিদ’ বা একেশ্বরবাদের আকীদার সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ব্যতীত অন্য কাউকে উপাসনার স্থান দেয়া নিষিদ্ধ। ফলে ধর্মীয় অনুভূতির বিরুদ্ধে কাউকে এ জাতীয় গান গাইতে বাধ্য করা অনুচিত।

সংবিধানের ১৯ ও ২৫ অনুচ্ছেদের বরাতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশ ও নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। ফলে বিবেকবিরোধী কোনো প্রতীক বা গান গ্রহণে কাউকে বাধ্য করার সুযোগ সংবিধানে নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশপ্রেম এবং উপাসনা দু’টি ভিন্ন বিষয়। মুসলিমরা নিজ দেশকে ভালোবাসলেও মাতৃভূমিকে উপাস্য মনে করতে পারে না। দেশপ্রেম প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো গানের প্রয়োজন পড়ে না। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বিভাজন সৃষ্টিকারী প্রসঙ্গের পরিবর্তে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যখাতের মতো মৌলিক জাতীয় সমস্যাগুলোতে নজর দেয়ার আহ্বান জানান।