ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দারুণ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। গতকাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৬ উইকেটের দারুণ এক জয় পায় নারী দল। এদিন মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রানের ঝলমলে এক ইনিংস খেলে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস জয়ীতা। পরের ম্যাচগুলো নিয়েও পরিকল্পনা করছেন এই ওপেনার ব্যাটার।
বড় দলের বিপক্ষে ভালো করার টোটকাও জানালেন এই ওপেনার। তিনি আরো বলেন, ‘সামনে আমাদের কয়েকটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ আছে। আমার প্রধান দায়িত্ব পাওয়ারপ্লের ভালো ব্যবহার করা, তাই আমি সেটাই করে যেতে চাই। বড় দলগুলোর বিপক্ষেও পাওয়ারপ্লে কাজে লাগিয়ে দলের জন্য যেন বড় ইনিংস খেলতে পারি। পরের ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সবাই জানে অসিরা কি পরিমাণ ভালো। এ কারণেই আমাদের চাপ কম। ওরাই বরং টেনশানে থাকবে। তাদেরকে আটকে দেয়ার জন্যই মাঠে নামব বুধবার (আগামীকাল)। শুরুর দিকে কয়েকটি উইকেট পেলে অথবা শুরুতে আমাদের টপ অর্ডাররা ভালো স্কোর গড়তে পারলে ফল ভিন্নও হতে পারে।’
জয়ীতা জানান, ‘আমরা যেহেতু আগে বোলিং করেছি, তাই যখন দেখলাম লক্ষ্য ১৪০ রান, তখন মনে হয়েছে খুব ভালো স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করতে হবে। তাই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে চেয়েছি। ওপেনার হিসেবে পাওয়ারপ্লের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমার লক্ষ্য ছিল ওই সময়টাতে যত বেশি সম্ভব রান করা। কিভাবে পাওয়ারপ্লেকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়, সেদিকেই মনোযোগ দিয়েছিলাম। এরপর সেট হয়ে বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করেছি।’
ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি করেও সন্তুষ্ট নন এই ব্যাটার। ‘আমার লক্ষ্য হয়তো আমি পুরোপুরি করতে পারিনি, কারণ ফিফটি করার পরপরই আউট হয়ে গেছি। তবে তার আগে পর্যন্ত বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা চালিয়ে গেছি এবং সেই অ্যাপ্রোচেই ব্যাট করেছি।’
জয়িতা আরো জানান, ‘জ্যোতি আপু ক্রিজে এসে আউট হয়ে গেলে একটু চাপ অনুভব করেছিলাম, কারণ তিনি আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটার। তবে আমাদের বাকি ব্যাটিং লাইনআপের ওপর অনেক বিশ্বাস ছিল। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে তাদের মধ্যে কেউ না কেউ দলকে জয়ের পথে নিয়ে যাবে।’
নিজের প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাড়তি কিছু করার তাগাদা ছিল কি না জয়ীতার, ‘এটি ছিল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ এবং আমারও প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। তাই আমার লক্ষ্য ছিল বিশেষ কিছু করা এবং দলের জন্য অবদান রাখা। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং খুশি যে সামান্য হলেও দলের কাজে আসতে পেরেছি। এটা নিয়ে সম্ভবত আমরা বিশ্বকাপ চারটি ম্যাচ জিতেছি।’



