লেবাননে মিসাইল হামলায় নিহত

১ মাস পর এলো দিপালীর লাশ, বিমানবন্দরে গ্রহণ করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Printed Edition
লেবাননে মিসাইল হামলায় নিহত দিপালী আক্তারের লাশ গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের সাথে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী  শামা ওবায়েদ : নয়া দিগন্ত
লেবাননে মিসাইল হামলায় নিহত দিপালী আক্তারের লাশ গ্রহণের সময় সাংবাদিকদের সাথে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

লেবাননে মিসাইল হামলায় নিহত বাংলাদেশী কর্মী দিপালী আক্তারের লাশ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার) দেওয়ান আলী আশরাফ এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদ্য যোগ দেয়া মহাপরিচালক মো: আসাদুজ্জামানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গত ৮ এপ্রিল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হামরা এলাকায় নিজ কফিলের পরিবারের সাথে অবস্থানকালে ইসরাইলের ভয়াবহ বিমান হামলায় দিপালী আক্তার ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছিলেন। এ সময় হামলায় তার কফিল ও তার পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হন। এরপর থেকেই ফ্লাইট জটিলতায় তার লাশ দেশটির হাসপাতালের মর্গের মরচুয়ারিতে পড়েছিল।

গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: শরীফুল ইসলামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিমানবন্দরে দিপালী আক্তারের লাশ হস্তান্তরের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নিহত দিপালীর পরিবারের জন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে মোট ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আমরা জানি কোনো অর্থই দিপালীকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না, তবুও শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব বাংলাদেশী ভাই-বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার এবং আমরা নিরলসভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দিপালীসহ ছয়জনের লাশ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে। একজনের লাশ পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবে দাফন করা হয়েছে। ইরাকে নিহত একজনের লাশ ফ্লাইট জটিলতার কারণে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। লাশ আনতে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাবস্থায় লাশ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না থাকা এবং বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও নিয়ম-কানুন মেনে ফরমালিটিজ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের সহায়তা এবং যুদ্ধকালীন জটিলতা অতিক্রম করে আমরা দ্রুততম সময়ে লাশগুলো আনার চেষ্টা করছি।

দিপালীর গ্রামে শোকের মাতম

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত বাংলাদেশী নারী শ্রমিক দিপালী বেগমের (৩৪) কফিনবন্দী লাশ এক মাস পর দেশে এসে পৌঁছেছে।

গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জের পূর্ব শালেপুরের মুন্সিরচর গ্রামে তার লাশ এসে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দিপালী ওই গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর শেখ মোফাজ্জলের মেয়ে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে সার্টিফাইড পুলিশ রিপোর্ট ও লাশ পাঠানোর অনুমতিপত্র গ্রহণসহ যাবতীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার লাশ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তার লাশ গ্রহণ করেন। এরপর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দিপালীর বাবা শেখ মোফাজ্জল ও ভাই শেখ ওবায়দুরের কাছে তারা লাশ হস্তান্তর করেন।

এ দিকে সকাল ১০টায় বাড়ির পাশে মুন্সিরচর মসজিদ প্রাঙ্গণে দিপালীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আসিক সিদ্দিকী ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোসাইন জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মো: মাজহারুল ইসলাম নিহত দিপালীর বাবা মোফাজ্জেল শেখকে ফোন করে খোঁজখবর নেন এবং সান্ত¡না দেন।

মোফাজ্জল শেখের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দিপালী বেগম বড় ছিলেন। পরিবারের দারিদ্র্য ঘুচাতে ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি লেবাননে পাড়ি জমান। প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি পরিবারের হাল ধরেছিলেন। দিপালী অবিবাহিত ছিলেন।

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আকাশপথে বিমান চলাচল বিঘœ হওয়ায় দিপালীর লাশ দেশে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্বিত হয়।