সাক্ষাৎকার : সাখাওয়াত হোসেন

জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত, শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই

জঙ্গী তৎপরতার রিউমার নিয়ে প্যানিক হওয়ার কিছু নেই। যদি কখনো এ ধরনের তৎপরতা সত্যিই হয় তখন এমন বিষয় নিয়ে কনসার্ন লোকজনের পরামর্শ নিয়ে সরকার আগাতে পারে। তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন বিশ্বব্যাপী জঙ্গি তৎপরতা ছিল। মুসলিম বিশ্ব থেকে সারা বিশ্বে। একটা-দুইটা করে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তখন নজর দেয়া হয়নি। পরে সেগুলো একসাথে হয়ে সঙ্কট সৃষ্টি করে। দি¦তীয়ত পলিটিক্যাল ইসলাম বলে একটা শব্দ সারা দুনিয়াতে উচ্চারিত হচ্ছে। আমাদের দেশে যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম, সেখানে যদি পলিটিক্যাল ইসলামকে স্পেস না দেন তাহলে প্রচুর সংগঠন আছে যেগুলো এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতা করতে পারে।

রাশিদুল ইসলাম
Printed Edition

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, জঙ্গী তৎপরতার রিউমার নিয়ে প্যানিক হওয়ার কিছু নেই। যদি কখনো এ ধরনের তৎপরতা সত্যিই হয় তখন এমন বিষয় নিয়ে কনসার্ন লোকজনের পরামর্শ নিয়ে সরকার আগাতে পারে। তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন বিশ্বব্যাপী জঙ্গি তৎপরতা ছিল। মুসলিম বিশ্ব থেকে সারা বিশ্বে। একটা-দুইটা করে বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তখন নজর দেয়া হয়নি। পরে সেগুলো একসাথে হয়ে সঙ্কট সৃষ্টি করে। দি¦তীয়ত পলিটিক্যাল ইসলাম বলে একটা শব্দ সারা দুনিয়াতে উচ্চারিত হচ্ছে। আমাদের দেশে যেখানে ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম, সেখানে যদি পলিটিক্যাল ইসলামকে স্পেস না দেন তাহলে প্রচুর সংগঠন আছে যেগুলো এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতা করতে পারে। একটা সময় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড একটা নেটওয়ার্ক বা কানেকশন হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় চলে গেছে।

নয়া দিগন্ত : জিওপলিটিক্যালি বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য কি এ ধরনের জঙ্গি তৎপরতা?

সাখাওয়াত হোসেন : এটা নিয়ে আমি ঠিক গভীর স্টাডি করিনি। বলতে পারব না। নর্থ ইস্ট নিউজে অনেকগুলো জিনিস আসছে যেগুলো কতখানি বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি রয়েছে সেটি তারা বলতে পারবেন যারা এফেক্টেড। তবে আমি সবসময় মনে করি, আমাদের দেশে এত ঘনবসতি, তারপর পলিটিক্যালি লোকজন অ্যাওয়ার, এ ধরনের ঘটনা এখানে ঘটতে পারে না। অনেকসময় এ ধরনের রিউমার ছড়ানো হয় যাতে আর্মড ফোর্সেসের ভেতরে একটা উইকনেস সৃষ্টি হয়। তারপর একটা নতুন সরকার এসেছে, দুই মাস গেছে, দেশে প্রচুর সমস্যা যেগুলো ওনাদের সামনে রয়ে গেছে। আনইউজিয়ালি একটা সরকারের যেভাবে পতন হয়েছে, একটা রেভিউলিশ্যন। বিশ্বে এ ধরনের রেভিউলিশ্যন হওয়ার পরে বহু বছর লাগে এটা সেটেল হতে। আমরা যদিও বলি মব হয়েছিল, এটা হয়েছিল, হ্যাঁ অনেক কিছু হয়েছিল যেগুলো সামাল দেয়া সম্ভব হয়নি ইন্টেরিম প্রিয়ডে, সেটি একটা ফেইলিওর আমি বলব। কিন্তু ইন্সট্রুমেন্ট কী ছিল, কী ইন্সট্রুমেন্টে করতে পারত, পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সংগঠন যেমন তাদের গ্রাসরুট লেভেলে আছে, ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সেটি ছিল না। সেটি করতে গেলে একটু হার্স হতে হতো। একটা দেশে ট্রমা হওয়ার পর যদি ওই একই জিনিস রিপিট করত তাহলে কেমন হতো আমি জানি না।

নয়া দিগন্ত : সার্বিকভাবে নিরাপত্তার দিক থেকে জঙ্গি তৎপরতা কতটা ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে?

সাখাওয়াত হোসেন : আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত, এটা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ হচ্ছে এখন আর্মড ফোর্সেসে যারা আছে তারাও ভালো করে জানে তাদের এক্সপোজার এখন বিদেশে আছে এবং সেটি তাদের ইন্টারেস্টে আছে। আর্মড ফোর্সেস মাশাল্লাহা যা-ই থাকুক না কেন তারা তো বিদেশে আছে, তারা তো বাইরে কাজ করছে।

নয়া দিগন্ত : বিশেষ করে জাতিসঙ্ঘের শান্তি মিশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে?

সাখাওয়াত হোসেন : সুনামের সাথে কাজ করছে। কোনো দুর্নাম হয়নি। অনেক দেশের দুর্নাম হয়েছে, তারা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে, আমাদের বাহিনী সুনামের সাথে যে কাজ করছে সেটিকে কোনো কোয়ার্টার থেকে একটু কালিমা লেপন করার অপচেষ্টা। সতর্ক থাকতে হবে এই আরকি।

নয়া দিগন্ত : নতুন সরকারকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা হতে পারে?

সাখাওয়াত হোসেন : সেটি তো আছেই। নতুন সরকার যে পলিসি ইমপ্লেনমেন্ট করবে, নানাবিধ প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এটা হয়েছে কেন, ওটা হয়েছে কেন, বিভ্রান্তিকর তথ্য ইভেন সরকারপ্রধানকে নিয়ে এটা খুবই খারাপ এবং এটা কারা করছে সেটিও দেশবাসীর জানা নেই।

নয়া দিগন্ত : এ ধরনের অপপ্রচারে তো তৃতীয় পক্ষ লাভবান হতে পারে?

সাখাওয়াত হোসেন : সেটিই বলছি। সতর্ক থাকার পাশাপাশি একটা ওয়ে বের করতে হবে। এই অপপ্রচারের উদ্দেশ্যটা কী হতে পারে? যারা এটা করছে তারা তো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড নয়, যেখানে তারা আছে মোটামুটি খুব একটা খারাপ অবস্থায় আছে।

নয়া দিগন্ত : বিমানবাহিনীর কোনো কোনো সদস্য জড়িত এমন বলা হচ্ছে?

সাখাওয়াত হোসেন : একচুয়ালি আমার পক্ষে এটা বলা কঠিন ও সম্ভবও না। সতর্কতার সাথে বিবেচনা রেখে মোকাবেলা করতে হবে।

নয়া দিগন্ত : সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে এ ধরনের অপপ্রচারকে কিভাবে মোকাবেলা করা যায়?

সাখাওয়াত হোসেন : এটা জরুরি। গভর্নমেন্ট নতুন এসেছে, তাদের সামনে অনেক সমস্যা। শুধু গুজব বা অপপ্রচার নিয়ে সরকারকে সময় দিলে তো হবে না। তথ্য মন্ত্রণালয়ে যথেষ্ট বিচক্ষণ লোকেরা আছে, ডেফিনিটলি তারা দেখবে। অনেক কষ্ট করে দেশে একটা সরকার এসেছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দেশকে এগিয়ে নিতে। বিরোধী দল রয়েছে, তাদের কাছেও ডেফিনিটলি খবর আছে, বিভ্রান্ত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। দেখতে হবে কারা কী কারণে জঙ্গি তৎপরতার কথা ছড়াচ্ছে, তাতে কার কী লাভ? আমি মনে করি না এখন সশস্ত্রবাহিনীতে এ ধরনের তৎপরতা রয়েছে। আগে এত কিছু হলো সেখানে কিন্তু কোনো নাম আসেনি। আইএসআইএস জঙ্গি তৎপরতা এত কিছু হলো। দুই-চারজন অ্যাডভেঞ্চারিস্ট এদিক-ওদিক হতে পারে; কিন্তু আই ডোন্ট থিং পিপল সাপোর্ট ইট। যে দেশে জনগণের সাপোর্ট নেই সেখানে জঙ্গি তৎপরতা কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে থাকতে পারে না।

নয়া দিগন্ত : রাজনৈতিক দলগুলোর তো এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা থাকা উচিত?

সাখাওয়াত হোসেন : হ্যাঁ, তারা নিশ্চয় জানে। এসব বিষয় নিয়ে ইমোশনালি হুড়াহুড়ি করার কিছু নেই। প্যাশনেটলি রাজনৈতিক দলগুলো এগুলো দেখবে। বুঝতে চেষ্টা করবে তারা কেন এ ধরনের রিউমার ছড়াচ্ছে।

নয়া দিগন্ত : রাজনৈতিক অনৈক্যে অনেকসময় এ ধরনের গুজব তো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়?

সাখাওয়াত হোসেন : সেটিই। আমাদের দেশে এখন প্রচুর লোক আছে যারা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। কারণ তারা রাজনৈতিক মাঠে নেই।

নয়া দিগন্ত : বাইরের ইন্ধন তো আছে?

সাখাওয়াত হোসেন : ইন্ধন আছে, সরকারকে প্রত্যেকটা জিনিসে রিঅ্যাক্ট না করে ভালো হবে যদি আরো কিছু কনসার্ন লোকজন যারা এগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করে তাদেরকে নিয়ে বসে আলোচনা করে একধরনের চেষ্টা নেয়া।

নয়া দিগন্ত : অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তো আপনারা জেটিএনসি বিমান ক্রয়, ড্রোন ফ্যাক্টরি নির্মাণ বা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

সাখাওয়াত হোসেন : আপনি তখনি একটা স্ট্রং বা ইনডিপেন্টডেন্ট ফরেন পলিসি নিতে পারবেন যখন হোয়েন ইট ইজ ব্যাক বাই ইওর আর্মড ফোর্সেস। অনেকে অনেক রকম কথা বলতে পারে বাট বাই দি মিলিটারি। ইট হ্যাজ টু বি ক্লিয়ার। আজকাল দুনিয়াতে ফরেন পলিসি মিক্সড উইথ দি মিলিটারি পলিসি। ডিফেন্স পলিসি। আমাদের দেশে এখন এই সময় এসেছে, এই জিনিসটাকে ভালো করে দেখা।

নয়া দিগন্ত : রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধান সম্ভব হয়নি- এ দিকটায় অনেকটা ঘাটতি থাকার কারণে?

সাখাওয়াত হোসেন : হ্যাঁ, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে অনেককিছু লিখেছি, টাইম পার হয়ে গেছে; যখন আমরা পারতাম তখন আমরা উল্টা কাজ করেছি। ওদেরকে আমরা সঙ্কট সলভের কথা বলেছি, ওরা বলেছে আজকে করব, কালকে করব, পরশু করব। সঙ্কট সমাধানে আমরা যথেষ্ট আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারিনি। সরকার এখন নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে এবং এক্সপার্ট লেভেলে ডিসকাস যদি কখনো এ ধরনের কোনো কিছু হয় হাউ টু হ্যান্ডেল ইট। প্যানিক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের কোনো পত্রপত্রিকায় এলো না, বাইরের কোনো পত্রিকা থেকে এলো, এইটা নিয়ে ছড়াচ্ছি, যারা ইন্টারেস্টেড তারা হয়তো, কিন্তু যে পত্রিকা থেকে আসছে তাদেরই বা সোর্সটা কী। ইনফ্যাক্ট আমি শুনেছি, আমার মনে হয়নি এগুলো ফিজিবল কোনো কিছু, গুরুত্ব দেয়ার মতো কিছু। আমাদের পলিসি মোতাবেকই চলা উচিত। সরকার কিভাবে দেশটাকে এগিয়ে নিতে চায় দে মাস্ট ডু ইট, উই মাস্ট সাপোর্ট।