বিশেষ সংবাদদাতা
জান্নাত আরা এবং কামাল হোসেন। তারা দু’জনেই আপন ভাই বোন। কিন্তু তারা কারাগারে আগমনের সময় আসল পরিচয় গোপন রেখে দু’জনেই খালাত ভাই-বোনের নাম এবং ঠিকানা ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে কারা কর্তৃপক্ষ তাদের কুটকৌশল ধরে ফেলতে সক্ষম হন। গত রোববার চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে পর্যটন নগরীখ্যাত কক্সবাজার জেলা কারাগারে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কারাগার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত রোববার কক্সবাজার জেলা কারাগারে আগমন করেন কাউসার বিবি নামের এক নারী। তিনি কারাগারের রেজিস্টারে নাম লেখান কাউসার বিবি। স্বামী আয়াতউল্লাহ। ঠিকানা ক্যাম্প-৪, মাঝি জোবায়ের, কুতুপালং ক্যাম্প, থানা উখিয়া, জেলা কক্সবাজার। একইভাবে কাউসার বিবির সাথে আসা হারুন আমিন নামের বন্দী তার পিতার নাম লেখান ছদরুল আমিন। তিনিও ঠিকানা দেন সাং-ক্যাম্প-৪, মাঝি জোবায়ের, কুতুপালং ক্যাম্প, থানা উখিয়া, জেলা কক্সবাজার। পরে কারা কর্তৃপক্ষ কারাগারের প্রিজনার্স ইনমেট ডেটাবেস সিস্টেমে (পিআইডিএস) দু’জনের ব্যক্তিগত ও মামলাসংক্রান্ত তথ্যাদির সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ ইনপুট দেন। তখন সাথে সাথে তথ্য গোপন করে তাদের কারাগারে আসার কৌশলটি ধরা পড়ে যায়। পরে তাদের দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বীকার করেন তারা যে নাম ঠিকানা দিয়েছেন সেটি ভুয়া। আসলে তারা দু’জনে আপন ভাই বোন। তাদের প্রকৃত নাম জান্নাত আরা। স্বামী মো: আয়াছ। পিতা জাহিদ হোসেন। মাতা সেতারা। কামাল হোসেন, পিতা জাহিদ হোসেন, মাতা সেতারা। তারা মূলত মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত বলে স্বীকার করে।
কারা কর্মকর্তারা এই প্রসঙ্গে জানান, বর্তমান কারা ব্যবস্থাপনার অধিকাংশ কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। আর এতেই ধরা পড়ে যাচ্ছে তাদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ছদ্মনামে কারাগারে অন্তরীণ হওয়ার চাতুরতা। দেশের কারাগারগুলোতে খবর নিয়ে জানা যায়, নতুন বন্দী হিসেবে কারাগারে আসার পর ভর্তি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পিআইডিএস বা প্রিজনার্স ইনমেট ডেটাবেস সিস্টেমে বন্দিদের ব্যক্তিগত ও মামলাসংক্রান্ত তথ্যাদির সাথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিশ ইনপুট দেয়া হয়। ফলে বন্দীদের যাবতীয় তথ্যাদি কারাগারে সংরক্ষিত থাকে। এতে করে বন্দীদের জামিনে মুক্তির সময় বা মুক্তির পর কারাগারে আবার আসার ক্ষেত্রে সহজেই ক্রস চেকিং করা যায়।
উল্লেখ্য, পিআইডিএস এ সংরক্ষিত তথ্যভাণ্ডার কাজে লাগিয়ে কারাগারগুলো প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচন-২০২৬ এ পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে পাঁচ হাজার ৬৭ জন বন্দীর ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রাতে কক্সবাজার কারাগারে আসা দুই বন্দীর আসল নাম পরিচয় গোপন করার বিষয়ে জানতে চাইলে কারা অধিদফতরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির নয়া দিগন্তকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ধারণা করা যায়, পূর্বের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, পলাতক অবস্থা বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা প্রকৃত পরিচয় গোপন করতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রিজনার্স ইনমেট ডেটাবেস সিস্টেম (পিআইডিএস) এসব তথ্য সংরক্ষিত থাকার কারণে কোনো বন্দী আবার কারাগারে আগমন করলে তার কোনো তথ্য আর লুকানো সম্ভব হয় না। গত রোববার কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিজেদের পরিচয় গোপন করে আগমনকারী দু’জন বন্দীর মামলার নম্বর জিআর-১৯৭/২৬। চকরিয়া থানার মামলা নং ৩২। আগেও তারা কারাগারে মাদক মামলায় আটক ছিলেন বলে জানান তিনি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করা হয়েছে বলে কারাগার সূত্র জানিয়েছে।



