হাম ও উপসর্গে আরো ৮ জনের মৃত্যু

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সারা দেশে গত এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরো আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু এবং বাকি সাতজন হাম সন্দেহে মারা গেছে।

গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৬৯ জনের। এই সময়ে হাম সন্দেহে ৭ মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে গতকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গে ৩৬৩ জন মারা যায়।

মমেক আরো ২ শিশুর মৃত্যু

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স ৪ মাস ও ১০ মাস। এর মধ্যে একজন মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে এবং অপরজন বুধবার (১৩ মে) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, জামালপুর সদর উপজেলা থেকে আসা এক শিশু গত সোমবার (১১ মে) সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। অপর দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থেকে ৫ মে ভর্তি হওয়া আরেক শিশু বুধবার ভোরে মারা গেছে।

গতকাল সকালে হাসপাতালের হামের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা: মোহা: গোলাম মাওলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখনো হাম আক্রান্ত রোগীর চাপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২১ জন। বর্তমানে এই হাসপাতালে মোট ৯৬ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সিলেটে হাম উপসর্গে ঝরল ৩ শিশুর প্রাণ

সিলেট ব্যুরো জানান,

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটে ঝরেছে আরো তিন শিশুর প্রাণ। এ নিয়ে এই বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। জানা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের মধ্যে ২ বছর ৩ মাস বয়সী হাফিজা আক্তার সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার, ১ বছর ৪ মাস বয়সী রাইসা জান্নাত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার এবং ৮ মাস বয়সী আরিয়া জান্নাত একই জেলার ছাতক উপজেলার বাসিন্দা। একই সাথে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ জন সন্দেহভাজন রোগী। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১৭ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১১০ জন এবং ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০ জন ভর্তি আছেন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। একই সময়ে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যে আরো জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেটে হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭ জনে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৩ জন শনাক্ত হয়েছে সুনামগঞ্জে।

কুমিল্লায় আরেক শিশুর মৃত্যু

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানায়, হাম উপসর্গে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো: রাব্বি (৫ মাস) নামে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হাম ও হামের উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সাথে নতুন করে আরো ২৭ জন শিশুকে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।

গতকাল কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা: আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। নিহত মো: রাব্বি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কাউছার আহমেদের ছেলে। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ৯ মে নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রাব্বির শরীরে হাম রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ মে পর্যন্ত কুমিল্লায় মোট ১ হাজার ৫২৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ জনের শরীরে সংক্রমণের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এক হাজার ১০৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৬২ জন।

রামেক হাসপাতালে ভর্তি হাজার ঠেকল

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গেল দুই মাসে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক হাজারে ঠেকল। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৪২ শিশু। আর মারা গেছে মোট ৫৫ জন। গতকাল সকালে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা: শঙ্কর কুমার বিশ্বাস এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি মঙ্গলবার থেকে বুধবার (১৩ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১০ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর আগে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৯৯০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০ শিশু ভর্তি হওয়ায় এই সংখ্যা মোট হাজারে গিয়ে দাঁড়াল। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে এখন ১০৩ শিশু চিকিৎসাধীন আছে। সর্বশেষ গেল ৬ মে হাসপাতালে হাম উপসর্গে এক শিশু মারা যায়। এরপর আর শিশু মারা যায়নি।